কলকাতা: সিএএ বিরোধিতায় বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করানো হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী রাজ্যের বিরোধী দলগুলি রাজি থাকলে এব্যাপারে বৈঠকেও আগ্রহী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার বিধানসভাতেও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হবে বলে জানানোর পাশাপাশি দেশের অন্য রাজ্যগুলিকেও এব্যাপারেও একই পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কেরল, পাঞ্জাবের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য বিধানসভাতেও পাশ করানো হবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাব।
সোমবার স্পষ্ট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাগরিত্ব আইন ও এনআরসি বিরোধিতায় প্রথম থেকেই কেন্দ্র-বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবিলম্বে এই দুই আিন বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটানা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। রাজ্যের জেলায়-জেলায় তৃণমূলনেত্রীর নির্দেশে সিএএ ও এনআরসির প্রতিবাদে পথে নেমে আন্দোলনে সামিল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।

তৃণমূলনেত্রী নিজেও সিএএ ও এনআরসি-র বিরোধিতায় কলকাতায় একাধিক মিছিল করেছেন। কলকাতা ছাড়াও কেন্দ্র-বিরোধিতায় মিছিল করেছেন বারাসত, পুরুলিয়াতেও। সোমবার তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলগুলি রাজি থাকলে আমরা এ নিয়ে একটি বৈঠক করব। ৩-৪ দিনের মধ্যে বাংলার বিধানসভাতেও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অন্য রাজ্যগুলিও যাতে কেন্দ্র-বিরোধিতায় একইভাবে পদক্ষেপ করে এদিন সেব্যাপারেও আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি, ‘সিএএ-র বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করার জন্য সব রাজ্যের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। এনপিআর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের বলব, ভালো করে তা পড়ে নিতে।’

কেরল বিধানসভায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর এরাজ্যেও বাম-কংগ্রেসের তরফে দাবি জানানো হয়েছিল বিধানসভায় প্রস্তাব আনার। কিন্তু সেই সময়ে রাজ্য সরকার পদক্ষেপ না নিলেও এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, ৩-৪ দিনের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় এই প্রস্তাব আনা হবে।

এরই পাশাপাশি এদিন এনপিআর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছএন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এনপিআর ভীষণ বিপজ্জনক। ওটা দিয়ে এনআরসির প্রাথমিক কাজ করে নিতে চাইছে। এটা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। যাঁরা বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট দেখাতে পারবেন না, তাঁদের বাদ দিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে।’

প্রথম কেরল বিধানসভায় নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাব পাশ হয়। ২ দিন আগে কংগ্রেস শাসিত পাঞ্জাব বিধানসভাতেও সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ হয়। এবার সেই তালিকায় নাম যুক্ত হতে চলেছে বাংলার।