কলকাতাঃ  লোকসভা নির্বাচনে প্রচারে এসে বারবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়েছেন মোদী থেকে অমিত শাহ সবাইকে। এই বিষয়ে সংসদে তৃণমূলের ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার কড়া ভাষায় বিজেপিকে জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক সভা থেকে মমতার জবাব, এই বাংলায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলও তিনি লাগু করতে দেবেন না।

তাঁর কথায়, এনআরসি’র ভয়াবহতা আর ভিটেমাটি উচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনা অসমে স্পষ্ট হয়েছে হিন্দুদের কাছেও। সন্ত্রস্ত হিন্দুদের ক্ষোভ বাড়ছে। সেই ক্ষোভকে বিপথে চালিত করতে এখন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনে পাশ করানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই এই রাজ্যে এই বিল কার্যকর করতে দেওয়া হবে না বলে মোদী-অমিত শাহদের জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অসমে এনআরসি লাঘু হওয়ার পর থেকে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। এমনকি অসমে তৃণমূলের একটি টিমকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল নেত্রী। বাংলাতে কোনওভাবেই এনআরসি চালু হবে না বলে বারবার সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দিয়েছেন। এবার নাগরিকত্ব সংশোধনী নিয়ে নিজের মনোভাব সাফ করে দিলেন মমতা।

প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এনআরসি হবে না, নাগরিকত্ব সংশোধনীও হবে না। কেন ভয় পাচ্ছেন? হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, রাজবংশী, কামতাপুরি সহ বাংলায় যাঁরা থাকেন, তাঁরা সবাই নাগরিক। কোনও ভেদাভেদ এখানে চলবে না। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই বাংলার সম্পদ। নাম না করে গেরুয়া শিবিরকে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, নাগরিকত্ব সংশোধনীর নামে কেউ কেউ কোথাও কোথাও গিয়ে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখাচ্ছে, কোথাও ভয় দেখাচ্ছে রাজবংশীদের, কোথাও তফসিলি জাতির লোকজনকে, কোথাও আবার হিন্দু উদ্বাস্তুদের। তাঁর কথায়, যদি হিন্দু উদ্বাস্তুদের উপর এতই দরদ, তবে কেন অসমে নাগরিক তালিকা থেকে ১৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হল? কেন বাদ গেল এক লক্ষ হিন্দিভাষীর নাম আর কেনই বা এনআরসি’তে ঠাঁই হল না এক লক্ষ গোর্খা ভাই-বোনের।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আসলে এসবই ফাঁদ। প্রথমে ছ’ বছরের জন্য নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। সমস্ত সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারপর দয়া হলে মিলবে নাগরিকত্ব। বাংলাতে কিছুতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কার্যকর করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।