স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তেলেভাজা শিল্পের পর রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের এবার চুল কাটার ট্রেনিং নিতে বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷বৃহস্পতিবার মন্দিরতলার সভা থেকে তিনি বলেন, চুল কাটার ট্রেনিং নিন৷ মনে রাখবেন কোনও কাজ খারাপ নয়৷

বিরোধীরা যতই তাঁর সমালোচনা করুক তাঁর রাজ্যে কর্মসংস্থানের কোনও সমস্যা নেই বলেই মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷কারণ বেকার যুবক-যুবতীদের তিনি পরামর্শ দেন, কোনও কাজই ছোট নয়, সব কাজ কর৷ এদিন ভোট প্রচারে এসে মমতা বলেন, বাংলায় ৩০০ আইটিআই করেছি, পলেটেকনিক করেছি৷পলেটেকনিক কলেজে ট্রেনিং দিয়ে আমরা চাকরি করে দিই৷ আপনারা সেখানে ট্রেনিং নিন৷ কেউ গাড়ি চালাতে চান, গাড়ি চালানোর ট্রেনিং নিন, ধান কাটতে চান, ধান কাটার ট্রেনিং নিন, চুল কাটতে চান, চুল কাটার ট্রেনিং নিন৷ মনে রাখবেন কোনও কাজ খারাপ নয়৷

মুখ্যমন্ত্রীর এই দাওয়াই শুনে ফের বিস্মিত বিরোধীরা৷তাদের বক্তব্য, রাজ্যে কর্মসংস্থান এবং বৃহৎ শিল্পের অভাব নিয়ে যখনই সরকারকে বেঁধা হয়েছে, তখনই মমতা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জয়গানে মনোনিবেশ করেছেন। কখনও হস্তশিল্প, কখনও মৃৎশিল্প, কখনও কাঁথাশিল্প, কখনও তেলেভাজা শিল্পের প্রসারে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলেছেন। কোনও চাকরি দিতে না পেরে শেষপর্যন্ত এবার চুল কাটার ট্রেনিং নিতে বলছেন৷

রাজ্যের শিল্পপতি-ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদরা বারবারই বলে আসছেন, উৎপাদন শিল্প চাই৷বেহাল অর্থনীতির মোড় ঘোরানোই হোক বা রাজ্যবাসীর রুটিরুজির বন্দোবস্ত করা দু’টির জন্যই নতুন কল-কারখানা গড়া, বন্ধ কারখানার দরজা খোলা একান্ত জরুরি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নয়া শিল্পসন্ধান এবং কর্সংস্থানের তালিকায় নতুন যে সব নাম এ দিন যোগ হল, তাতে রীতিমতো হতভম্ব রাজনৈতিক মহল থেকে বণিক মহল সকলেই।