নয়াদিল্লি: দীর্ঘ আড়াই বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ঘন্টাখানেক বৈঠক চলে এই বৈঠক। বৈঠক শেষে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, খুব ভালো বৈঠক হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। কিন্তু সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অমিত শাহের সঙ্গেও দেখা করবেন। আগামিকাল বৃহস্পতিবার সময় পেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সৌজন্যের খাতিরেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর। আর তা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন দিল্লিতে আসলে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রীয়মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে রাজনাথ সিং থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। ফলে এবার যেহেতু তিনি দিল্লিতে এসেছেন সেই কারণে সৌজন্যের খাতিরেই অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে চান বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

যদিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সম্পূর্ণটাই সরকার টু সরকার বলে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি বৈঠকে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ঝাড়খন্ডে রয়েছেন অমিত শাহ। তিনি যদি সময় বার করতে পারেন তাহলেই দেখা করা সম্ভব।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সময় হবে না। আগামিদিনে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র তাঁর সঙ্গে নিশ্চয় সাক্ষাৎ করবেন বলে মন্তব্য তাঁর।

ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, কখনই এই বৈঠক সরকার টু সরকার হয়নি। একেবারে একান্তে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে মমতার অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, রাজীব কুমারের পিছনে পড়ে গিয়েছে সিবিআই। আর তা ম্যানেজ করতেই অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে গিয়ে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছে তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মোদীর হাতে একথোকা হলুদ গোলাপ তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসিমুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকেও।