নয়াদিল্লি: ভোটের শেষ পর্যায়ে এসে ‘দিল্লির সিংহাসনে’র স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কংগ্রেস৷ ফলাফলের আগেই ২৪ আকবর রোডের দলটির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিরোধী শিবিরের বৈঠকের কথা৷ কিন্তু সেই বৈঠকে না যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল মমতা, মায়া ও অখিলেশের৷

আরও পড়ুন: মোদী আবার এলে দেশে আর নির্বাচন থাকবে না : মমতা

বুয়া-বাবুয়া থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো, তাদের মতে ফলাফল কী হয় তা দেখেই বৈঠকের ডাক দেওয়া উচিত৷ আগ বাড়ায়ে ভোটের ফলাফল না দেখে হাত শিবিরের কোনও বৈঠকে তারা যোগ দিতে রাজি নন৷ সম্প্রতি চন্দ্রবাবু এসেছিলেন তৃণমূলের প্রচারে৷ তখনই তাঁকে একথা জানিয়ে দেন তৃণমূল মেত্রী৷

বিজেপি বিরোধী শিবিরের অন্যতম তিন মুখ মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়, মায়াবতী ও অখিলেশ৷ তারাই যোগ দেবেন না রাহুলের ডাকা বৈঠকে৷ তাহলে কী জল মাপতে আপাতত কংগ্রেসের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন এই তিন নেতা, নেত্রী? নাকি, অবিজেপি-অকংগ্রেসী শক্তির শরিক হয়ে সরকার গঠনের পথ খোলা রাখতেই তাদের এই কৌশল? জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে৷

আরও পড়ুন: ফের বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে উচ্চচাপ বলয়, ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস

২০১৮ কর্ণাটক ভোটের সময় একমঞ্চে দেখা গিয়েছিল মায়া, মমতা রাহুল, সোনিয়া, অখিলেশদের৷ কিন্তু তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পরিস্থিতি৷ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘অহঙ্কারে’র অভিযোগ তুলেছেন সপা ও বসপার অখিলেশ ও মায়াবতী৷ আর তৃণমূল নেত্রীতো আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন বাংলায় ৪২-এ ৪২-ই তাঁর লক্ষ্য৷

ফলে উত্তরপ্রদেশ হোক বা বাংলা৷ বিরোধী জোটে কল্কে না পেয়েই একলা লড়াইয়ের পথই বেছে নিয়ে বাধ্য হয় হাত শিবির৷ এতেই শেষ নয়৷ প্রচারেও রাহুল গান্ধীকে নিসানা করে তীব্র বিষোদগার করছেন মায়া-মমতারা৷ বিজেপি ও কংগ্রেস যে একই মুদ্রার দু-পিঠ তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ ফলে স্পষ্ট হচ্ছে সম্পর্কের তিক্ততা৷

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় বাহিনীর নাম করে আরএসএস-এর লোক ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে: মমতা

এই পেক্ষাপটেই অবশ্য মাঠে নেমে পড়েছেন কেসিআর৷ ভোট শুরু আগে কলকাতায় এসে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন টিআরএস প্রধান কেসিআর৷ কোন শিবিরে না থাকা নবীন পট্টনায়ক ও হালে কেরালার মু্খ্যমন্ত্রী বিজয়ণের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী৷

মমতা প্রথম দিকে বিজেপি কংগ্রেস ছাডা় ফেডারাল ফ্রন্টের কথা জানিয়েছিল৷ তাতে সায় ছিল চন্দ্রশেখরের৷ পরে অবশ্য কংগ্রেসকে নিয়ে গেরুয়া বাহিনীর বিপক্ষে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়া কথা জানান তৃণমূল নেত্রী৷ গড়রাজির কথা জানিয়ে সেই জোটে সামিল হননি কেসিআর৷ উত্তরপ্রদেশে যাদব ও দলিত ভোটের কথা মাথায় রেখে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে মায়া অখিলেশও৷

আরও পড়ুন: ঘণ্টায় ৪০০ কিমি, সর্বাধিক গতির বুলেট ট্রেন পরীক্ষা করল জাপান

কেসিআরের পদক্ষেপে উজ্জ্বল হচ্ছে তৃতীয় শক্তির দানা বাঁধার সম্ভাবনা৷ সেই সম্ভাবনাকেই যেন মান্যতা দিল মমতা মায়ার কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত৷ রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২৩শের ফলাফলই জল মাপার চাবিকাঠি৷ আপাতত সেদিকেই চোখ শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির৷