স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা ভোটে বিপর্যয়৷ জোড়াফুল ছেড়ে বিধায়ক, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্যরা এখন পদ্মমুখী৷ ঠেলার নাম বিজেপি৷ বুঝছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ এই পরিস্থিতিতে ‘চির শত্রু’ বাম ও প্রাক্তন জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে কাছে টানার বার্তা দিলেন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

বুধবার বিধানসভা অধিবেশনে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানেই তিনি বিরোধী বাম ও কংগ্রেস বিধায়কদের যৌথভাবে লড়ার আহ্বান জানান৷ তিনি বলেন ‘‘সিপিএম-কংগ্রেস দেশটাকে ভাঙবে না। আমার ভয় হচ্ছে, ওরা (বিজেপি) সংবিধান না বদলে দেয়। আমাদের যৌথভাবে আসা দরকার৷’’

আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার ভাটপাড়ায় যাচ্ছেন বুদ্ধিজীবীদের একাংশ

এরপরই, শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কংগ্রেস পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান৷ তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেসের অনেক পার্টি অফিস তৃণমূল দখল করে নিয়েছে। জোর করে এই কাজ হচ্ছে কেন?’’ জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাকে তালিকা দিন৷’’ বিরোধী এই দুই দলের কাছে আর্জি, ‘‘আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আমরা বিষয়টা দেখছি৷’’

এই প্রথম নয়৷ বছর কয়েক আগেও এরাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত আন্দাজ করতে পেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নবান্নে বাম নেতৃত্বকে ফিসফ্রাই খাইয়ে গেরুয়া দলটির বিরুদ্ধে জোর লড়াইয়ের বার্তা দেন৷

এবার লোকসভা ভোটের নিরীখে রাজ্যে প্রায় ১৩০টি আসনে এগিয়ে বিজেপি। পদ্মপালের হাওয়ায় দোদুল্যমান ঘাসফুল শিবির৷ পরিসংখ্যান বলছে বাম ভোট পড়েছে বিজেপির দিকে৷ আর বছর দেড়েক এই প্রবণতা বজায় থাকলে রাজ্যপাটে টিঁকে থাকা দায় হবে তৃণমূলের৷ বুঝেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাই বিজেপি জুজুতে শত্রুতা ভুলে মমতার আগ বাড়িয়েই বাম কংগ্রেসকে কাছে টানার বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: লাল-সবুজ ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন অসংখ্য শিক্ষক শিক্ষিকা

তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তায় অবশ্য সাড়া দিতে নারাজ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট বা বিধান ভবনের নেতারা৷ সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের কথায়, ‘‘উনি ক’দিন আগে বলছিলেন সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি একসঙ্গে লড়ছে। উনি প্রথমে বলুন, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ভোটের সময় মিথ্যাচার করেছি।’’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বলেন, ‘‘তিনি কখনও বলছেন কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড করে দেবেন। আবার কখনও বলছেন, কংগ্রেস দেশটাকে ভাঙবে না। কোনটা সত্যি আগে সেটা ঠিক করুন৷’’ আর যাদের জন্য মমতার এই বার্তা! বিজেপির মুকুল রায়ের দাবি, ‘‘বাম, কংগ্রেস, তৃণমূল একজোট হয়েও ২১শের ভোটে বিজেপিকে হারাতে পারবে না৷’’