কলকাতা: কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল, আবার ফিরে যাওয়া কংগ্রেস। সোমেন মিত্রের রাজনৈতিক জীবনে অনেক উত্থান পতন এসেছে। ৭৮ বছর বয়সে চলে গেলেন তিনি। রয়ে গেল তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড।

প্রদেশ কংগ্রেস সভপাতি ছিলেন সোমেন মিত্র। তবে প্রথমবার নয়। আগেও এই পদ সামলেছেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমেন মিত্র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করেছেন রাজনৈতিক লড়াই। কিন্তু, পরে বিচ্ছেদ। জানা যায়, সোমেন মিত্রের জন্যই নাকি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের জন্ম দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়েছিলেন,তখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন সোমেন মিত্র। সেইসময় নাকি সভাপতি নির্বাচনের ভোটে মমতাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন সোমেন। এরপরই সরে আসেন মমতা।

যদিও পরে সেই সোমেন মিত্রকেই দলে টেনে সবচেয়ে বড় চমক দেন তৃণমূল নেত্রী। যদিও সেই সম্পর্কও টেকেনি বেশি দিন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের সাংসদ পদে ইস্তফা দেন তিনি।

২০১৪-র জানুয়ারিতে তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন সোমেন মিত্র। সেইসময় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়ার লোকই বেশি ছিল। আথচ সোমেন মিত্র হাঁটলেন উল্টো পথে। তৃণমূল ছেড়ের কংগ্রেসে যোগদান করলেন তিনি। জানা যায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির সঙ্গে মতবিরোধের কারণে কংগ্রেস ছেড়েছিলেন সোমেন মিত্র। তৈরি করেছিলেন প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস।

প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস নামের সেই দল ছিল কার্যত খাতায় কলমে। ২০০৯ এর লোকসভা ভোটে প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস তৃণমূলে মিশে যায়। দু-তিন বছর মোটামুটি ঠিকই চলছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেও নিজের একটি সত্তা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছিলেন সোমেন মিত্র। তা নিয়েই সম্ভবত সংঘাত শুরু হয়। এরপরই আবার কংগ্রেসে ফেরা।

গত কয়েকদিন ধরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত রবিবার সেখানে ফোন করে সোমেনবাবুর স্বাস্থ্যের খোঁজও নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বুধবার রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।