স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ স্বীকার করে নিয়েছেন দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ‘গোলি মারো’ বলা উচিৎ হয়নি। তাঁর এই ‘অনুতাপ’কে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নেতারা মুখে গুলি মারার কথা বললে, কর্মীরা তো তেমনটা করবেই। কিন্তু, ঘটনা ঘটে গেল, তারপর দুঃখপ্রকাশ করে কী হবে?” তবে এই কথাগুলো বলার সময় একটি বারের জন্যও অমিত শাহের নাম মুখে আনেননি মুখ্যমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি পরিষদীয় দলনেতা মনোজ টিগগাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “মনোজবাবু আপনার দলকে বোঝান। এভাবে বিভেদের রাজনীতি করলে হয় না। মানবিকতা দিয়ে সবকিছু দেখতে হয়।” দিল্লির ভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর মন্তব্য করেন, “গোলি মারার।”

কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর দিল্লির নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে বলছেন, “দেশ কি গদ্দারো কো’, আর জনতা গলা মিলিয়ে বলছে, “গোলি মারো শালো কো।” বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল সেই ভিডিও।তীব্র সমালোচনার মধ্যেও সেই সময়ে ভালমন্দ কিচ্ছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু দিল্লির ভোটে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাওয়ার পর ‘অনুতাপ’ শোনা গেল অমিত শাহের গলায়। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে শাহ বলেছেন, “গোলি মারোর মতো মন্তব্য করা উচিত হয়নি। একই সঙ্গে দিল্লির ভোটকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলেও ঠিক করেননি বিজেপি নেতারা।” সদ্য প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি মনে করেন, এই ধরনের মন্তব্য জনগণের সঙ্গে আরও দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দিল্লির ভোটে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের আলোচনা সভায় শাহ স্বীকার করে নিয়েছেন, “দিল্লির ভোট নিয়ে আমার অনুমান ভুল ছিল।”

পর্যবেক্ষকদেরও বক্তব্য, মেরুকরণ করতে গিয়ে ব্যুমেরাং হয়েছে বিজেপির। হিন্দু ভোটের বিভাজন হয়েছে। আর ‘গোলির ভয়ে’ সংখ্যালঘু ভোট ঢেলে এসে পড়েছে আম আদমি পার্টির বাক্সে। তাই হয়তো শাহ আজকে এই ধরনের কথা বলতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছেন।