লখনউ: প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য যোগ্যতম দাবিদার হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও অবিজেপি রাজনৈতিক দলের নেতা নয়, এই মন্তব্য করেছেন যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্রীসভার সদস্য ওম প্রকাশ রাজবর।

চলতি বছরেই অনুষ্ঠিত হবে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন। আগামী মাসেই নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা। এই নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করতে জোত বেঁধেছে বহু রাজনৈতিক দল। যাদের নিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মহাসমাবেশ করেছিল তৃণমূল। যে মঞ্চে বিজেপি বিরোধী ২৩টি রাজনৈতিক দলের নেতা হাজির ছিলেন বলে দাবি করেছে ঘাস ফুল শিবির।

বিজেপি বিরোধী মহাজোট হলেও সেই জোটের নেতৃত্ব কে দেবে বা কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে সকলেই আলোচনা করে এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন ব্রিগেডের মহাসমাবেশে। আর এই নিয়েই মহাজোটকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিজেপি শিবির।

এই অবস্থায় মহাজোটের আদর্শ প্রধানমন্ত্রী বাছাই করলেন উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজবর। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। যার পরিচালনায় রয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। জোট শরিক সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির হাতে দেওয়া হয়েছিল অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন এবং বিকলাঙ্গ মানুষদের উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব।

গত কয়েক মাস ধরেই সরকারে থেকেও বিজেপি শিবিরকে ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছেন ওম প্রকাশ রাজভর। বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তর প্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তিনি মুখ খুলেছেন। একই সঙ্গে চলতি মাসের ২৪ তারিখে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কথাও ঘোষণা করে দিয়েছেন। তার আগে বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ করলেন ওম প্রকাশ।

শনিবারের সভায় ওম প্রকাশ সিং

মহাজোটে না থাকলেও এনডিএ শিবিরে তিনি থাকছেন না, একথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির প্রধান ওম প্রকাশ রাজবর। কিন্তু বিজেপি পরাস্ত হলে সরকার চালাবে মহাজোট। এমনই অবস্থা বর্তমানে ভারতীয় রাজনীতির। তাহলে কে হবে প্রধানমন্ত্রী? কে আদর্শ ব্যক্তি? এই প্রশ্নের জবাবে ওম প্রকাশ রাজবর বলেছেন, “আমার তো সকলকেই আদর্শ মনে হয়। তবে সবার মধ্যে সেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

এই প্রথমবার শক্তিশালী অবস্থায় বাংলার মাটিতে লড়াইয়ে নামতে চলেছে বিজেপি। গত পাঁচ বছরে তারা রাজ্য রাজনীতিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। সেই কারণেই যোগী আদিত্যনাথকে সভায় বাধা দিয়েছে মমতার প্রশাসন। এমনই অভিযোগ করেছে বিজেপি। এই বিষয়ে ওম প্রকাশ রাজবর অবশ্য বলছেন অন্য কথা। তাঁর কথায়, “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব। সেই কারণে উনি যা করার করেছেন। একই কারণে যোগী আদিত্যনাথ ২০১৭ সালে বারাণসীতে আমার সভা বাতিল করে দিয়েছিলেন।”