স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের ডাকা সর্বদল বৈঠকে যাচ্ছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় একথা জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, “আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে বলছি যে, এই ধরনের বৈঠক ডাকার কোনও এক্তিয়ারই নেই রাজ্যপালের। তাই এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কেন, আমাদের কেউই যাবেন না।”

আগামী ১৭ তারিখ বেলা ১২টায় রাজভবনে বৈঠক ডেকেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷ রাজভবন থেকে জারি করা বিবৃতিতে মমতার সঙ্গে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী, ফরওয়ার্ড ব্লকের আলি ইমরান রামজ, সিপিআইয়ের অশোক দিন্দা, আরএসপি’র বিশ্বনাথ চৌধুরী, বিজেপি’র মনোজ টিগ্গা এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ডঃ রোহিত শর্মা— বিধানসভায় প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলির মোট আটজন পরিষদীয় নেতানেত্রীকে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠান রাজ্যপাল। তবে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি চূড়ান্ত থাকায় মান্নান এবং সুজনরা ওইদিন বৈঠকে হাজির থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। মান্নান দিল্লিতে এবং সুজন কেরলে দলীয় কাজে ব্যস্ত থাকবেন ওইদিন।

দুই বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও সুজন চক্রবর্তী যেহেতু সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না তাই মঙ্গলবার ওই বৈঠকের দিন বদল করেছেন রাজ্যপাল। আগামী ২১ জানুয়ারি বিকেল ৪টেয় বৈঠক হবে বলে জানিয়েছে রাজভবন।ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের চেয়ারপার্সন তথা সরকারি পরিষদীয় দলের নেত্রী হিসেবে মমতাকে এই আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন ধনকড়। যদিও বর্তমান আবহের কথা মাথায় রেখে মমতার এই বৈঠকে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

কেন এই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকছেন রাজ্যপাল? আমন্ত্রণপত্রে তিনি লিখেছেন, গণপিটুনি এবং এসসি-এসটি কমিশন বিল নিয়ে জট কাটাতে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করতেই এই বৈঠক ডাকছি। কারণ, এই দুটি বিল নিয়ে আমার তরফে রাজ্য সরকার ও বিধানসভার সচিবালয়ের কাছে যে তথ্য চাওয়া হয়েছিল, তা আজ পর্যন্ত পাইনি। বিধানসভায় পেশ করার জন্য তাঁর কাছে পাঠানো এসসি-এসটি কমিশন বিল নিয়ে তিনি বলেছেন, বিভাগীয় সচিব একজন অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে আমার সঙ্গে এব্যাপারে দেখা করেছিলেন। কেন্দ্রীয় আইন মোতাবেক জাতীয় স্তরে এসসি এবং এসটি সংক্রান্ত দুটি পৃথক কমিশন থাকার পরও একই ধরনের একটি সংস্থা রাজ্যে কেন প্রয়োজন হচ্ছে, সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় ওই অফিসারদের কাছে।