স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সমস্ত রাজ্যে জাতীয় জনসংখ্যাপঞ্জি তথা এনপিআর কার্যকর করতে কেন্দ্রের ডাকা বৈঠক যাচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রানি রাসমনি রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ধর্নামঞ্চ থেকে একথা জানালেন তিনি৷

বাংলায় এনআরসি, সিএএ এবং এনপিআর কার্যকর হবে না বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একেবারে সরকারি বিজ্ঞাপন দিয়ে নবান্ন জানিয়ে দিয়েছিল সে কথা। কিন্তু সেই বিজ্ঞাপন সংবিধানসম্মত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আদালত বিজ্ঞাপন সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু বিজ্ঞাপন বন্ধ হলেও সরকারের মনোভাব যে বদলায়নি তা স্পষ্ট হয়ে গেল আরও একবার। এদিন মমতা বলেন, “১৭ তারিখ এনপিআর নিয়ে দিল্লিতে যে বৈঠক ডাকা হয়েছে, তাতে আমি যাচ্ছি না। সরকার ভেঙে দিলে দিক, আমি যাব না। ” বাংলা থেকে কোনও সচিব বা আমলাও ওই বৈঠকে যাবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

দেশে ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়। তার আগে তৈরি করা হয় এনপিআর। ২০১১ সালে শেষ জনগণনার পর আবার নির্ধারিত জনগণনার বছর ২০২১। এনপিআর হওয়ার কথা ২০২০ সালে। সেই কাজের জন্য রাজ্য জুড়েই প্রশিক্ষণ চলছিল। সেই প্রশিক্ষণের কাজই বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

নবান্ন থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, পুরসভা-সহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গে এনপিআর তৈরি বা আপডেট করার সব কাজ স্থগিত করে দেওয়া হল। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আগাম ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনও কাজ করা যাবে না।’ অর্থাৎ, এত দিন রাজনৈতিক ভাবে বিরোধিতা করেছেন। এ বার প্রশাসনিক ভাবেও পদক্ষেপ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর মধ্যে আবার তৃণমূল পরিচালিত কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভার এনপিআর বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের অনেকে বলতে শুরু করে দেন, মুখে যাই বলুক না কেন আসলে দিল্লির সরকারের তাঁবেদারি করছে নবান্ন। বিতর্ক বাড়ছে দেখে কামারহাটি পুরসভা ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেয়।

উল্লেখ্য, ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির ডাকা সিএএ বিরোধী বৈঠকও বয়কট করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ