কলকাতা: করোনার মধ্যে আমফান যেন বাংলার কাছে ‘গোদের ওপর বিশ ফোঁড়া’৷ তিন দিন কেটে গেলেও এখনও স্বাভাবিক নয় শহর কলকাতা৷ শনিবার শহর কলকাতা বিদ্যুৎহীন ও জলশূন্য৷ ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষ৷ কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আমফানের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহরকে স্বাভাবিক করতে আর কয়েকটা দিন সময় লাগবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তবে শহরে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা ফিরিয়ে আনতে এদিন সিইএসসি অফিসেও যান মমতা৷

বুধবার সারা দিন ও রাত বাংলায় তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আমফান৷ যার জেরে বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দুই চব্বিশ পরগনা৷ ক্ষয়ক্ষতি কম হয়নি শহ কলকাতাতেও৷ তিন বিদ্যুৎ ও জন শূন্য থাকার পর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে শহরবাসীর৷ দিকে-দিকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-অবরোধ। তবে এর মধ্যে রাজনৈতিক চক্রান্ত দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো কাজ করছি। আমি ও আমার টিম ৩ দিন ঘুমাইনি। দিন-রাত এক করে কাজ করছি। সব দলকে বলব, কিছুদিনের জন্য ক্ষান্ত হন। দয়া করে উসকানি দেবেন না৷’ শহরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিইএসসি-র কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে আমার ও মুখ্যসচিবের কথা হয়েছে৷’

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান CESC-এর কন্ট্রোল রুমে। কেন এত সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে কথাও বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিরোধীদের একাংশ ‘মানুষকে উত্যক্ত করছে’ আর ‘সংবাদমাধ্য়মের একাংশ সেটা বড় করে’ দেখাচ্ছে। বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘শান্ত থাকুন। ক্ষান্ত দিন।’

বিদ্যুৎ না-থাকায় গৃহস্থের নানা প্রয়োজনীয় কাজ মিটছে না। জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। বিদ্যুতের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ-অবরোধ চলছে। শহরবাসীর একটাই প্রশ্ন, কবে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হবে? কলকাতা-সহ একটা বড় অংশে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেয় সিইএসসি। তাদের তরফে জানা, কলকাতায় বিদ্যুৎ পরিষেবা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে৷

পরিষেবা স্বাভাবিক হতে দেরি হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে সিইএসসি-র তরফে জানানো হয়, ভিন্‌রাজ্য থেকে অনেক কর্মী এখানে কাজ করেন। যারা করোনা এবং লকডাউনের কারণে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। এ রাজ্যে দুর্যোগের আগে তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। আমপান (প্রকৃত উচ্চারণ উম পুন) এ রাজ্যে আছড়ে পড়ার পর, কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। কোথাও গাছ পড়েছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের বাক্সে জল ঢুকে গিয়েছে। তার জেরেই বিভিন্ন এলাকায় পরিষেবা দিতে অসুবিধা হচ্ছে। তবে দ্রুত যাতে আগের অবস্থায় ফেরা যায় তারই চেষ্টা করা হচ্ছে।’