স্টাফ রিপোর্টার,বারাসত: দেশজোড়া এনআরসি এবং সিএএ বিরোধী আবহের মধ্যেই ঝাড়খণ্ডে দ্বিতীয় বারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জেএমএম নেতা হেমন্ত শোরেন। রবিবার রাঁচিতে বিরোধী দলগুলির ঐক্যমঞ্চে দাঁড়িয়ে শপথ নেন তিনি। আর সেখানে বিরোধী দলগুলির মধ্যে মধ্যমণি হয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। শাসকদলের এইভাবে ঝাড়খণ্ড সফর প্রধান বিরোধী দল যে ভালো চোখে নিচ্ছে না তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। এবার সেই ইস্যুতে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। ‘বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় যে ভাবে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন তা বিস্ময়কর।’ মন্তব্য করেন তিনি।

হেমন্ত সোরেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে বিরোধী ঐক্যের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে কী করে মমতা বন্দোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ডে যান, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লকেট। বিজেপি সাংসদ জানান, মমতা বন্দোপাধ্যায় হেমন্ত সোরেনদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ২৬ জন প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছিলেন। যাদের প্রত্যেকের জামানত জব্দ হয়েছে। এখন মানুষকে বোকা বানাতে তৃণমূল সুপ্রিমো স্রেফ বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে, হেমন্ত সোরেনদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ড যাত্রা করেছেন গুণ্ডা ভাড়া করতে। ফের একই কথা বলে বাবুল সুপ্রিয়র অভিযোগে শিলমোহর দিয়েছেন হুগলির এই সাংসদ। তিনি এদিন আরও অভিযোগ করে বলেন, “বাহুবলের রাজনীতি করেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী”। রবিবার উত্তর ২৪ পরগণার নীলগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে এসে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে ঠিক এই ভাষাতেই আক্রমণ করেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, সিএএ নিয়ে ভুল বার্তা প্রচার করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি সংবিধানকে অস্বীকার করে চলেছেন এবং সন্ত্রাস চালাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কাজকর্মের প্রতিফল হিসেবে মানুষ তাকে ভোটবাক্সে এর জবাব দেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত,জেএমএম ক্ষমতায় আসার পরই বিরোধীদের চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, ‘আসুন সবাই মিলে দেশ বাঁচাই’। চিঠিতে মমতা লিখেছিলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং ‌এনআরসি নিয়ে দেশে জাতি-‌ধর্ম নির্বিশেষে, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুরা, কৃষকেরা, তফসিলি জাতি-‌উপজাতি ও অন্য পিছিয়ে ‌পড়া সম্প্রদায় এবং সংখ্যালঘুরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। এক মঞ্চে আসার বার্তাও দিয়েছেন। চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, মমতার আবেদন, ‘‌আমরা সকলে মিলে, আসুন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও অর্থপূর্ণ বিরোধিতা গড়ে তুলি।’‌