স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বারাকপুরের প্রার্থী হতে চান তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং৷ দল রাজি না হলে চরম সিদ্ধান্ত নিতেই তৈরি তিনি৷ ভোট ঘোষণার আগে থেকেই এই খবর ঘিরে জল্পনা চরমে৷ বিষয়টি কানে যেতেই হস্তক্ষেপ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷

সোমবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ডেকে পাঠান বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ দিনেশ ত্রিবেদী ও ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে৷ দুজনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷

সূত্রের খবর, এবারও দিনেশ ত্রিবেদীকে বারাকপুর আসন থেকে প্রার্থী করতে চান দলনেত্রী৷ কিন্তু বেঁকে বসেছেন অর্জুন সিং৷ তাই এক্ষেত্রেও মমতার কৌশল, ‘সাপও মরবে না, লাঠিও ভাঙবে না৷’  কৌশলে বিষয়টিকে সামলানোর চেষ্টায় মমতা৷

জানা গিয়েছে এদিনের বৈঠকে নিজের ইচ্ছের কথা দলীয় বিধায়ককে জানিয়েছেন মমতা৷ আপাতত বারাকপুর কেন্দ্রে দলের তরফে ভোট প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে৷ মিলতে পারে মন্ত্রী হওয়ার সুযোগও৷ তৃণমূলের অন্দরের খবর, নেত্রীর সিদ্ধান্তে খুশি নন ভাটপাড়ার এই ডাকাবুকে বিধায়ক৷ ঘনিষ্ট মহলে ইতিমধ্যেই নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন অর্জুন সিং৷

মঙ্গলবারই তৃণমূলের ১২ সদস্যের নির্বাচন পরিচালন কমিটির সহ্গে বৈঠকে বসবেন দলনেত্রী৷ সেখানেই চূড়ান্ত হবে প্রার্থী তালিকা৷ তারপর ঘোষণা হবে ২০১৯ লোকসভা ভোটের প্রার্থীদের নাম৷ তার আগে কোনও বিতর্ক চাননি মমতা৷ ফলে এদিনের বৈঠক৷ কিন্তু প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অর্জুন সিং চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে৷ তবে মনে করা হচ্ছে প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে আপাতত অর্জুনকে কোণটাসাই করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

গত শুক্রবারই বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাটের বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে যান বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ এরপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার পারদ তুঙ্গে ওঠে৷ রাজ্যের শাসক দলের অন্দরেও নানা কানাঘুষো শোনা যায়৷ চাউল হয় সব্যসাচী দত্ত তাঁর ‘রাজনৈতিক গুরু’ মুকুল রায়ের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরের নাম লেখাবেন৷

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ওই তৃণমূল বিধায়ক ও মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে বলেন তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সদস্যদের৷ রবিবার হয় সেই বৈঠক৷ প্রকাশ্যে মুকুল রায়ের দল ভাঙানোর ‘অভিসন্ধি’কে দায়ী করেন সব্যসাচী ও তৃণমূল নেতারা৷ সূত্রের খবর, বৈঠকের অন্দরে দলীয় নেতৃত্বের কাছে নিজের কাজেক জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন বিধাননগরের মেয়র৷ বলেন, ‘আমি তৃণমূূলে ছিলাম, আছি, থাকবো’৷ ফলে এযাত্রায় অবসান হয় তৃণমূল ভাঙার নানা জল্পনার৷

তারই মাঝে মাথাচাড় দেন ভাটপাড়ার বিধায়ক৷ লোকসভার প্রার্থী হতে চেয়ে নাছোড় তিনি৷ যোগাযোগও নাকি করেছেন পদ্ম শিবিরের সঙ্গে৷ বারে বারে এই বিষয়টি উঠলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে৷ ফলে ভোটের আগেই ‘প্রার্থী লোভি’ বিধায়ককে সমঝে দিতে মরিয়া মমতা৷ একদিকে প্রচার ও মন্ত্রীত্বের টোপ, অন্যদিকে কথা বলে মানভঞ্জণের চেষ্টা৷ আদতে আর্জুন সিংকে প্রার্থী করা হচ্ছে না বুঝিয়ে ‘কোণঠাসা’ই করলেন তৃণমূল নেত্রী৷ মনে করছে রাজনৈতির বিশ্লেষকরা৷