বসিরহাট: লোকনাথ মন্দিরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে চারজনের। অন্তত ২৭ জন জখম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রচণ্ড ভিড় ও বৃষ্টিতে ভেড়ে পড়ে মন্দিরের পাঁচিল। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে কলকাতায় নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরই হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও পরে এসএসকেএম হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও কথঅ বলেন। এরপরই ক্ষতিপূর ঘোষণা করেছেন তিনি। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। গুরুতর জখম হওয়া ব্যক্তিদের ১ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে কচুয়ায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রত্যেক বছরের মতই এবারও লোকনাথ বাবার জন্মতিথি উপলক্ষে কচুয়ার মন্দিরে লাইন দিয়েছিলেন পূণ্যার্থীরা। আর সেখানেই এবার ঘটল দুর্ঘটনা।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মস্থান কচুয়া ধামে প্রতিবারই ভিড় জমান ভক্তরা। এবছরও বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভিড় বাড়ছিল মন্দিরে। বিভিন্ন প্রান্তের বহু পুণ্যার্থী কচুয়ার লোকনাথ ধামে ভিড় জমান।

অভিযোগ, ভিড় বাড়লেও, মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে তা সামাল দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। তার উপর বৃষ্টি হয়। এরপরই মন্দির সংলগ্ন একটি পাঁচিল ভেঙে পড়ে। ওই দুর্ঘটনার পরই আতঙ্কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তাতেই পদপিষ্ট হন পুণ্যার্থীরা। ভক্তদের অভিযোগ, প্রতিবার ভিড় সামলাতে লকগেটের ব্যবস্থা থাকলেও এ বার তা ছিল না। ফলে বহু মানুষের সমাগমে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।

আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বসিরহাট মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। তবে পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ভোরে মন্দিরে জল ঢালার জন্য প্রত্যেকবারই ভিড় হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফেও এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।