নয়াদিল্লি: ভোটের আগে এক সাক্ষাৎকারে মোদী বলেচিলেন, মমতা তাঁকে প্রত্যেক বছর জন্মদিনে কুর্তা উপহার দেন। অক্ষয় কুমারকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর সেই সাক্ষাৎকারের রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে সেদিন জলঘোলা হয়েছিল বিস্তর। এবারও সেই কুর্তা হাতেই মোদীর কাছে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যে মোদীর সঙ্গে মমতার রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রায় আদায়-কাঁচকলায়, যাঁকে নাকি উঠতে-বসতে আক্রমণ করতে ছাড়েন না মমতা, সেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হতেই তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন তিনি। মোদীর হাতে একথোকা হলুদ গোলাপ তুলে দিলেন তিনি। হাসিমুখে মমতাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মোদীও। শুধু ফুল নয়, মিষ্টিমুখও করালেন মোদীকে।

চন্দননগরের বিখ্যাত মিষ্টির দোকান সূর্য মোদকের জলভরা খাওয়ালেন মোদীকে। সঙ্গে ছিল পাঞ্জাবিও। ফুল, মিষ্টির সঙ্গে বিশ্ববাংলার তাঁতশিল্পীদের তৈরি পাঞ্জাবির সেটও প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন বেশ দীর্ঘক্ষণ কথা হয় দুই নেতৃত্বের। বৈঠক সেরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। পুজোর পরই বীরভূমের দেওচা-পাঁচমি কয়লাখনির উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, “কেন্দ্রের কাছে ১৩৫০০ কোটি টাকা রাজ্যের প্রাপ্য। সেই বিষয়ে আরও বিস্তারিতভাবে কথা বলা হয়েছে।”

বহুচর্চিত পশ্চিমবঙ্গের নাম বদল নিয়েও তিনি বলেন যে, “আমি আমার যা বক্তব্য জানিয়েছি। যেহেতু বাংলা নামের সঙ্গে অনেকের আবেগ জড়িয়ে আছে তাই এই নাম রেখে আর কিছু করা যায় কিনা সেই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন ভেবে দেখবেন।”

নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত যে রাজনৈতিক কোন উদ্দেশ্য নেই, এই বক্তব্যের পর তিনি আরও বলেন যে, “আমি যতবার দিল্লিতে এসেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করেছি। রাজনাথ সিং যখন দায়িত্বে ছিলেন তখনও আমি দেখা করে গেছি। আগামিকাল যদি সব ঠিক থাকে তাহলে অমিত শাহের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করব।”