স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চাপে কিছুটা নরম হল নবান্ন। কেন্দ্রের পাঠানো আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলকে অবশেষে কলকাতায় পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেননি রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।

কেন্দ্রের পাঠানো আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। রাজ্য সরকারকে মঙ্গলবার এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নর্থব্লকের স্পষ্ট বক্তব্য, আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অসহযোগিতা রাজ্য সরকার বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের (২০০৫) শর্তকে লঙ্ঘন করেছে। রাজ্য সরকার তা করতে পারে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে বাধ্য রাজ্য।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পুণ্যসলিলা শ্রীবাস্তব বলেন, “চারটি রাজ্যে আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছিল। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের সরকার আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলকে ভরপুর সাহায্য করছে। কিন্তু অসহযোগিতা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।”

তাঁর কথায়, “কেন্দ্রের দুটি টিমের একটি কলকাতায় বসে রয়েছে দেড় দিন ধরে। অন্য টিম রাজ্য সরকারের সাহায্যের অপেক্ষায় জলপাইগুড়িতে বসে রয়েছে। তাঁদের কোথাও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কোনও স্বাস্থ্য কর্মীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা ঠিক নয়।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই যুগ্ম সচিব আরও জানান, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার আজ ফের চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে ১৯ এপ্রিলের নির্দেশ তারা যেন পালন করে।”

এরপরই এদিন সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা বলেন, “আমি নিজে আজ দুপুরে বিএসএফের গেস্ট হাউজে গিয়েছিলাম। ওঁরা কলকাতার কতগুলি জায়গা পরিদর্শন করতে চেয়েছেন। ” মুখ্য সচিবের কথায়, “আমি বলেছি আপনারা কলকাতার কিছু জায়গায় ঘুরতে পারেন। লোকাল অফিসাররা যতট সম্ভব সাহায্য করবেন। তবে সব সময়ে থাকতে পারবে না। যতটুকু সম্ভব তাঁরা থাকবেন।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই চিঠি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্য সচিব অবশ্য বলেন, এই চিঠি আমি এখনও এই চিঠি পাইনি। তবে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে যা করার তা আমরা করব। যতটুকু সম্ভব সাহায্য করব।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমিত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় দল। এনিয়ে অসন্তুষ্ট রাজ্য সরকার।

এদিন দুপুরে রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। গুরুসদয় দত্ত রোডে বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ কার্যালয়ে সেই বৈঠক হয়। এরপরই দক্ষিণ কলকাতা পরিদর্শনে বেরোয় কেন্দ্রীয় দল।
কিন্ত এই বৈঠকের পরই রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় দল।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্রের অভিযোগ, “অন্যান্য রাজ্যে যে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গিয়েছে, তারা রাজ্য সরকারের সব রকম সহযোগিতা পাচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন সহযোগিতা করছে না তা আমি বুঝতে পারছি না। “

তিনি বলেন, “আমাদের নবান্ন থেকে বলা হয় লকডাউন চলছে। আমরা যেন না বেরোই।” যদিও, নবান্নের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি এ বিষয়ে।

এরপরই সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়ে নবান্নকে চিঠি পাঠায় সরাষ্ট্রমন্ত্রক। আর তারপরই সুর নরম হয় নবান্নর।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ