স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান ও জলপাইগুড়ি: কলেজে সুষ্ঠুভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ভরতি করতে মাঠে নেমেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু তারপরও রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে ভরতি নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ অব্যাহত৷ সোমবার এই একই অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের একটি কলেজে৷ এখানেও অভিযুক্ত সেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

আরও পড়ুন- অধ্যাপকদের স্বস্তি দিয়ে কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

এদিন বাংলায় অনার্স নিয়ে ভরতি হতে সোমবার বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজে যান স্থানীয় বাসিন্দা সেখ দানিশ আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, কলেজেই এক ছাত্রনেতা পাস কোর্সে ভরতির জন্য ১০ হাজার টাকা এবং অনার্সের জন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়। একইভাবে তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকেও টাকা চাওয়া হয়। এমনকি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাদের কলেজে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ওই ছাত্র। দানিশ জানিয়েছেন, তাঁর বাবা লরির চালক। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আদৌ কলেজে পড়া হবে কিনা তাই নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন দানিশ৷

এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ৷ পূর্ব বর্ধমান টিএমসিপির জেলা সভাপতি বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে কলেজে ভরতি নিয়ে কোনওরকম তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না৷ কিন্তু তারপরও কেউ যদি এই কাজ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, কলেজে তোলাবাজি নিয়ে আগামী ৯ জুলাই রাস্তায় নামতে চলেছে এসএফআই। এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক অনির্বাণ রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, গোটা জেলা জুড়েই কলেজে কলেজে ভরতি নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। মেধার পরিবর্তে অর্থের ভিত্তিতেই ভরতি চলছে। তার বিরুদ্ধেই আমাদের আন্দোলন। কলেজে কলেজে তোলাবাজি বন্ধ করতে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রচার করা হচ্ছে৷

কলেজে ছাত্র ভরতি নিয়ে এদিন জলপাইগুড়িতেও কড়া পদক্ষেপ করেছে পুলিশ প্রশাসন৷ দালাল চক্র ঠেকাতে নিদেশিকা জারি করা হয়েছে। নিদেশিকার বলা হয়েছে, কলেজে ভরতির জন্য কেউ টাকা চাইলে নাম-ঠিকানা ও কলেজের নাম দিয়ে ৮১৪৫৮২৪১০২ এই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করা যেতে পারে অথবা ফোন করা যেতে পারে ০৩৫৬১-২৩০৫৭৫ নম্বরে।

জলপাইগুড়ি কোতয়ালি থানার আই সি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, আমাদের কাছে কলেজ ভরতি নিয়ে কোনও অভিযোগ এলে আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে করা ব্যবস্থা নেব।