শেখর দুবে, কলকাতা: গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা অবধি পশ্চিমবঙ্গের রক্তক্ষয়ী ভোট রাজনীতি এতটুকুও বদলায়নি৷ ৩৮ বছরের বামেদের অপশাসন থেকে মুক্তির স্বাদ পেতে বাংলার মানুষ সম্মিলিতভাবে ২০১১ সালে পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন বাংলার মসনদে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর বিশ্বাস করে যে দায়িত্ব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী তাতে তিনি একেবারে ফেল করেছেন এমনটাই দাবি আরএসএসের৷

বৃহস্পতিবার রাজ্যের আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের দুটি লোকসভায় প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ ছিল৷ কোচবিহারের বিভিন্ন জায়াগাতে বিরোধী পোলিং এজেন্টদের বুথে ঢুকতে না দেওয়া এবং ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে৷

বাংলার বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমও সে ছবি দেখিয়েছে৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে থেকেই বাংলায় ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক অশান্তির জন্য আরএসএসের দিকে আঙুল তুলে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা দিয়ে আরএসএসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘২০১১ থেকে ২০১৯ এই বছরগুলিতে তৃণমূল সরকারের কাজ দেখলেই সহজে বোঝা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেল করেছে তাই উনি আরএসএসের দিকে আঙুল তুলছেন৷ ২০১১ সালে বাংলার সাধারণ মানুষরা পরিবর্তনের আশা করে মমতাকে ভোট দিয়েছিলেন৷ ৩৪ বছরের অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে আমরাও সেই সময় ওনাকে সমর্থণ করেছিলাম৷ যে আশা করে মানুষ ওঁকে ভোট দিয়েছিল সেই বিশ্বাস উনি ভেঙেছেন৷ আরএসএস কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়৷ আমরা কোনও দলের হয়ে প্রচার করিনা৷ আমরা সবাইকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছি৷ ভোটাধিকার নিয়ে মানুষের সচেতনতা তৈরির কাজ করেছি শেষ কয়েকমাস ধরে৷’’

কোচবিহার, রায়গঞ্জের মতো সীমান্তবর্তী কেন্দ্রগুলিতে হিন্দুদের ভোট কতটা প্রভাব ফেলবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে? এই প্রশ্নের উত্তরে আরএসএস দক্ষিণবঙ্গের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘শুধু কোচবিহার কিংবা রায়গঞ্জ নয়৷ রাজ্যের অনেক জায়গাতেই হিন্দুরা ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক অত্যাচারের শিকার৷ তার প্রভাব অবশ্যই এবারের ভোটে পড়বে৷