কলকাতা: শনিবার সকালে প্রয়াত হয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ডঃ শিশির বসুর স্ত্রী এবং যাদবপুরের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কৃষ্ণা বসু। আকস্মিক এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার বেলা ২টো ১৫ নাগাদ তিনি নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “একজন ভালবাসার, শ্রদ্ধেয় বিশেষ মানুষকে আজ হারালাম। স্বাধীনতা সংগ্রামী ডঃ শিশির বসুর স্ত্রী এবং প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কৃষ্ণা বসুর মৃত্যুর খবর শুনে চমকে গিয়েছি, তাঁর প্রয়াণে আমি শোকাহত। তিনি নেতাজীর পরিবাররের অংশ হয়েও তিনি একজন একনিষ্ঠ সমাজ সংস্কারক, পাশাপাশি একজন বিখ্যাত কবি এবং সাহসী শিক্ষাবিদ ছিলেন।

ট্যুইটের দ্বিতীয় অংশে তিনি লিখেছেন, “কৃষ্ণা দি দুই ছেলে সুগত বসু ও সুমন্ত বসু এবং মেয়ে শর্মিলার পাশাপাশি গোটা তৃণমূল পরিবারের কাছে মায়ের মতন ছিলেন। ভারতীয় সমাজে এবং বাংলার সংস্কৃতিতে তাঁর বিশাল অবদান স্বরনীয় থাকবে”।

ইএম বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে শনিবার সকালে ১০ টা ২০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

জানা গিয়েছে, হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। আইসিইউ-তে পর্যবেক্ষণেও ছিলেন কৃষ্ণা বসু। শনিবার সকালে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দুই ছেলে সুগত বসু ও সুমন্ত বসুর সামনেই হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাইপো শিশির বসুর স্ত্রী ছিলেন কৃষ্ণা বসু।

১৯৩০ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন কৃষ্ণা বসু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান তিনি। পরে প্রবেশ করেন শিক্ষাকতার জীবনে। কলকাতার সিটি কলেজে প্রায় ৪০ বছর অধ্যাপনা করান তিনি।

২৪ বছর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার তৃণমূলের টিকিটে লড়েন তিনি। পর পর ৩ বার যাদবপুরের সাংসদ ছিলেন কৃষ্ণাবসু। একাধারে তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে তিনি ছিলেন রাজনীতিবিদও। পাশাপাশি সংগীত বিশারদের ডিগ্রিও ছিল তাঁর।