স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: একটা বাসে বোম মেরে সস্তায় পাবলিসিটি করছে। এদের রাজনৈতিক মৃত্যু হওয়া দরকার। বনধ নিয়ে এভাবেই সিপিএমের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বামেদের ডাকা বনধে এদিন সকাল থেকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। জায়গায় জায়গায় রাস্তা অবরোধ, রেল অবরোধের জেরে ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। বারাসতের কাছে হৃদয়পুর স্টেশনে রেল লাইনে কৌটো বোমা রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বনধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। একাধিক জায়গায় গাড়ি, বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এদিন সেই প্রসঙ্গেই মমতা বলেন, “সিপিএমকে দেখে আমার খারাপ লাগছে এই জন্য যে, ওদের আদর্শ বলে আর কিছু নেই। যদি ন্যূনতম আদর্শবোধ থাকত তাহলে ট্রেন লাইনের নীচে বোমা রেখে গুন্ডামি করত না।এর থেকে কেরলের সিপিএম ভাল। তবু ওখানে কিছু মতাদর্শ বেঁচে আছে।”

মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন তিনি বনধের ইস্যু সমর্থন করেন। কিন্তু বনধকে সমর্থন করেন না। এদিন মমতা বলেন, “আমি সিপিএমের মতো গুলিপন্থায় বিশ্বাস করি না। মারপিট পন্থায় বিশ্বাস করি না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করুন। রাস্তায় নামুন। প্রতিবাদের অনেক ভাষা আছে।”মুখ্যমন্ত্রী এদিন সিপিএম সমর্থকদের মনে করিয়ে দেন, “দেশের অর্থনীতির কথা ভাবতে হবে। বনধে জন্য একজন দোকানদার একজন কর্মচারী এদের কথা ভাবতে হবে। এই বনধের ফলে কত ক্ষতি হচ্ছে।”

তোপ দেগে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকারের উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না। তাই গুন্ডামি করে ভেঙে দিচ্ছে সব।” এঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মমতা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ঠিক করে আন্দোলন কর। বাংলার সরকার, শাসকদলও রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। কিন্তু এভাবে হিংসাপূর্ণ আন্দোলনকে ধিক্কার জানাই।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “প্রতিটা বনধ ব্যর্থ হচ্ছে। তাও বছরে ৪টে করে বনধ ডেকে দেওয়া হচ্ছে। এই করতে করতে পার্টিটা সাইনবোর্ডে এসে ঠেকেছে।”

এদিন বেসরকারি বাস মালিকেরা রাস্তায় সেভাবে বাস না নামালেও রাস্তায় যথেষ্ট সরকারি বাস ছিল। সাধারন দিনে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম ৬০৫টি বাস চালায়। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম চালায় ৬৯২টি ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহণ নিগম ৯০০টি বাস চালায়। এই সংখ্যাটাই বুধবার এক লাফে অনেকটাই বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম বুধবার ৬৫৫টি, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম ৮২৬টি এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহণ নিগম ১১৫০টি বাস নেমেছে রাস্তায়।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব