বারুইপুর: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিজেপি সমর্থক নন, জ্যোতিবাবুও হয়তো বিজেপির বিরুদ্ধেই ছিলেন- সিপিএমের ভোট বিজেপির ঝুলিতে চলে যাওয়া আটকাতে এভাবেই একদা রাজনৈতিক শক্রুদের স্মরণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে এঁটে উঠতে না পেরে কমরেডদের অনেকেই পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বলতে শোনা যায়, সিপিএমের হার্মাদরা এখন বিজেপির ওস্তাদ৷

এদিন মিমি চক্রবর্তীর সমর্থনে বারুইপুরে এক সভাতেও মমতা সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপির বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ তোলেন৷ তিনি বলেন, যাদবপুরের বামপ্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্যকে সমর্থন করছে বিজেপি৷ এরপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রশংসা করে সিপিএমকে একহাত নেন তিনি৷

মমতা বলেন, বাংলার সবচেয়ে বেশি বদনাম হয়েছে সিপিএমের জন্যই। আজ ওদের হার্মাদরাই বিজেপির ওস্তাদ হয়েছে।অনেক মার খেয়েছি, অনেক অসম্মানজনক কথা শুনেছি, কিন্তু তা-ও বলব সিপিএম-এর সব লোক খারাপ নন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে কখনও বিজেপি সমর্থক বলব না। মিথ্যা কথা বলে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট করে লাভ কী? উনি আমার বন্ধু নন, নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরে তো ওঁদের আমলেই হয়েছে। কিন্তু ওঁর অবস্থান স্পষ্ট। উনি বিজেপির বিরুদ্ধে। জ্যোতিবাবুও হয়তো বিজেপির বিরুদ্ধেই ছিলেন। কিন্তু বেঁচে নেই তাই জিজ্ঞাসা করতে পারব না। কিন্তু আজকাল সিপিএম-এর যে নেতারা এদিক ওদিক মাথা চাড়া দিয়েছে, তারা সব বিজেপির কথায় উঠছে বসছে। যা দিচ্ছে হাত পেতে নিচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন খাঁটি সিপিএম সমর্থকদের বিজেপিতে যাওয়া আটকাতেই জ্যোতিবাবু-বুদ্ধবাবুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন মমতা৷

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদীকে “ধান্দাবাজদের চৌকিদার” বলে উল্লেখ করেন বুদ্ধদেব। মোদীকে বিঁধতে গিয়ে “উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও পুঁজিপতিদের মডেল” বলেও আখ্যা দিয়েছেন বুদ্ধদেব।

বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিলেন মমতা৷ যদিও পরে জ্যোতিবাবুর বাড়িতে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেও দেখা গিয়েছে মমতাকে৷অসুস্থ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কিন্তু এতদিন পর হঠাৎ করে এই দুজনকে নিয়ে এমন একটা মন্তব্য আলিমুদ্দিনের নেতাদের খানিক ভড়কে দিয়েছেন মমতা৷