স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২০১৪ সাল থেকে বাংলায় এসে জনসভা করছি৷ বাংলায় ২৩টি জনসভা করেছি৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বাংলায় জনসভা করেছে৷ কোথাও কোনও জাতিদাঙ্গা হয়নি৷ আমার জনসভার পর কোথায় জাতিদাঙ্গা হয়েছে তা মিডিয়ার সামনে আনুক তৃণমূল৷ ক্ষমতা থাকলে তা মিডিয়াকে বলুক৷ পশ্চিমবঙ্গে জাতি দাঙ্গা বাধায় পুলিশ৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজেপিকে কীভাবে দোষারোপ করতে পারে? – এই প্রশ্ন ও অভিযোগের বাক্যবাণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদ্ধ করেছেন৷

শুক্রবার আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা না করেই কোচবিহারের সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য বিজেপি৷ বৃহস্পতিবার আদালত আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রথযাত্রা বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে৷ তবে রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে শুক্রবার সকালেই সভার মূল আকর্ষণ অমিত শাহ এবং বিপ্লব দেবকে ছাড়াই সভা করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে৷ বিজেপির জাতীয় সম্পদক রাহুল সিনহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘কলকাতা হাইকোর্ট রথযাত্রার উপর স্থগিতাদেশ দিলেও সভা করার বিষয়টি আটকায়নি৷ সভা হতেই পরে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোর্টে নোংরা খেলা খেলে রথযাত্রা আচকেছে৷ কিন্তু এবার কোর্ট আর বিভ্রান্ত হবে না৷

তবে সভা না করতে পারলেও রাজধানীর ১১ নম্বর অশোক রোডে, বিজেপির সদর দফতরে বসে তিনি যা বলেছেন, তা হয়তো কোচবিহারের জনসভায় বলতেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়ের কারণ বুঝতে পারছি৷ তবে শুনে রাখুন, রথ এবার বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছাবে৷ আমাদের প্রশাসনের সাহায্যের দরকার নেই৷ সাধারণ মানুষের সহযোগীতা প্রয়োজন৷’’রথযাত্রা কেন হতে পারল না তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন অমিত৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জানিয়েছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে৷ পুলিশও ভীত৷ প্রশাসন কোনও ব্যাপারকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না৷ আদালতকেই হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে৷’’অমিত এদিন আরও জানান, তিনি শনিবার কলকাতায় যাবেন৷ তবে কলকাতায় এসে তিনি কী কা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন, তা স্পষ্ট বলেননি৷ অনেকের মতে তিনি কলকাতায় মিছিল করতে পারেন৷

অমিতের সাফ কথা, ‘‘গত সাত বছর ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস কুশাসন চালাচ্ছে৷ কিন্তু জনতা জাগ্রত হয়েছে৷ পরিবর্তন করতে বাংলার আম জনতা তৈরি৷ আমি বলছি, বাংলায় রথযাত্রা হবেই৷ যে জায়গা থেকে হওয়ার কথা ছিল সেখানেই হবে৷ আমিই ওই রথযাত্রার উদ্বোধন করব৷ বাংলার ৪২টি লোকসভা , ২৯৪টি বিধানসভায় ঘুরবে রথ৷’’ তারিখ বিশ্লেষণ করে তিনি বলেছেন, ৭, ৯ এবং ১৭ তারিখ বিজেপির রথযাত্রা কথা জানিয়ে ২৯ অক্টোবর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়৷ এরপর ৫, ১২ এবং ২০ নভেম্বর পুনরায় চিঠি দিয়ে তাকে মনে করানো হয়েছে৷ কিন্তু তাঁর তরফ থেকে কোনও উত্ত আসেনি৷ এরপর, ১৪, ২০ এবং ২৩ নভেম্বর রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে৷ কোনও উত্তর আসেনি৷

অমিত বলেন, ‘‘বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে যা রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ঘটেছে, তা কমিউনিস্টদের আমলে ঘটেনি৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমাদের দলের ২০ জন খুন হয়েছে৷ বামপন্থী এবং কংগ্রেসের কর্মীদের কথা বাদ দিয়েই বলছি৷ ত্রিলোচন মাহাতো, দুলাল কুমার এবং জগন্নাথ কুণ্ডর খুনের ঘটনার কিনারা কতটা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জবাব দিচ্ছেন না কেন? রাজ্যে ৩৪ শতাংশ পঞ্চায়েত আসনে ভোট হয়নি৷ ২ কোটি লোক ভোট দিতে পারেনি৷ তবুও আমরা ৭০০০ সিট জিতেছি৷ আরে পঞ্চায়েতের পর তো মমতার ঘুম উড়ে গিয়েছে৷ বন্দর, পোর্টে কয়লা মাফিয়ারা রাজ করছে৷ জগাই-মাধাই সব জায়গায় রয়েছে৷ ইতিহাসে জগাই মাধাই চৈতণ্য মহাপ্রভুর উপর হামলা করেছিল৷ এজ রাজ্যে ওই জগাই-মাধাইকে সব জায়গায় পাবেন৷ রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে৷’’

জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘দেশের ২৬ শতাংশ রাজনৈতিক খুন পশ্চিমবঙ্গে হয়৷ উত্তরপ্রদেশের তুলনায় ৭০ শতাংশ, বিহারের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি রাজনৈতিক খুন বাংলায় হয়৷ ৩৪ শতাংশ মহিলা পাচার হয়, ডান্স বারের সাংখ্যাও বেড়েছে৷ কলেজ ভর্তি হতে গেলে বিষয়প্রতি ৬০ হাজার টাকা লাগছে৷ বিবেকানন্দ-রামকৃষ্ণের বাংলা এখন বোমের কারখানা৷’’

1 COMMENT

Comments are closed.