কলকাতা: বিজেপির হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। নবান্নে এসে জানালেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আব্দুল্লা। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা। বৈঠক শেষে একথা জানান তিনি।

আগামী সোমবার তেলেঙ্গানার মুখভমন্ত্রী কালভাকুন্তলা চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন বলে সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, এর আগেও তিনি নবান্নে মমতার সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন৷

লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশে বিজেপি বিরোধী জোটের এক হওয়ার একটি প্রয়াস শুরু হয়েছে৷ সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির খারাপ ফলাফল তৃণমূল এবং অন্যান্য অবিজেপিয় দলগুলিকে উৎসাহিত করেছে৷ ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে বিজেপির পরাজয় হিন্দি ‘হার্টল্যান্ডে’ গেরুয়া শিবিরকে আনেকটাই অশহায় করে দিয়েছে৷ মমতা আগে ভাগেই বলে রেখেছেন, সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছে বিজেপি৷ দিল্লিতে মমতার ঘোষণা করে এসেছেন, আঞ্চলিক দলগুলি একসঙ্গে কাজ করবে৷ যে যেখানে শক্তিশালী, সেইখানেই লড়াই করবে৷ দেশের একটা ‘পজিটিভ’সরকার আসুক৷

আরও পড়ুন: রথের চাকা ঘুরতে কাটবে বছর

এদিকে তিন রাজ্যে জিতেও আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট করবেন তা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ ইউপিএ-তে রাহুল কী চান তা এখনও পরিষ্কার নয়৷ মমতার মুখেও রাহুলের প্রশংসা শোনা যায়নি৷ এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস নাকি চাইছে, ১৯ জানুয়ারি রাজ্যে মমতার ব্রিগেডে রাহুল গান্ধী বা সোনিয়া গান্ধী কেউই না উপস্থিত থাকুক৷ সোমেন মিত্র এবং ব্রিগেড চাইছে এআইসিসির অন্য কোনও নেতাকে পাঠিয়ে ভদ্রতা রক্ষা করুক৷

তবে ১৯ জানুয়ারি মমতার ডাকা ব্রিগেড নিয়ে প্রচার তুঙ্গে তুলেছে তৃণমূল৷ পার্টির তরফে দাবি দেশের সমস্থ অবিজেপি নাতারা কলকাতার মধ্যে একজোট হবে৷ দেশকে নতুন দিশা দেখাবে বাংলা৷ শুধু মাত্র ফারুক আবদুল্লা, কেসিআর-ই নয়, চন্দ্রবাবু নাইডু, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব বা মায়াবতির সঙ্গেও ফেডারেল ফ্রন্ট নিয়ে আলোচনা চালিয়েছেম মমতা৷ মমতার বক্তব্য, যে যেখানে শক্তিশালী, সে সেখানে লড়াই করুক৷ তামিলনাডু়তেও ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে মমতা৷

আরও পড়ুন: মোদী সরকারের নয়া সিদ্ধান্তকে ‘ডেঞ্জারাস’ বললেন মমতা

কিছুদিন আগেই কেসিআর-এর সঙ্গে মমতার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন কেশব রাও৷ এক সময় বহু জোটের স্থপতি ছিলেন প্রাক্তণ এই এ আই সি সি সদস্য৷ কেশব রাও এখন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির সাংসদ৷ জাতীয় রাজনীতিতে জোট রসায়নের এই ‘পাকা খেলোয়ারকে’ অনেকবারই তৃণমূল নেত্রীর মন পড়তে কলকাতায় পাঠাতেন সনিয়া গান্ধী এবং প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ কংগ্রস-তৃণমূল জোটের এই সফল স্থপতিকেই কাজে লাগিয়েছেন কে সি আর৷

কংগ্রেস এবং বিজেপির থেকে সমদূরত্বে থাকতে চাওয়া তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি ধর্মনিরপেক্ষ তৃতীয় ফ্রন্টে যোগ দিতে ইচ্ছুক৷ কিন্তু এই ধর্মনিরপেক্ষ-গণতান্ত্রিক তৃতীয় ফ্রন্টের চেহারা ঠিক কীরকম রকম হবে তা এখনও আবছা৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বন্ধু হিসেবে পেয়েছেন কে সি আর৷ প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, কে সি আরে’র মতো মমতাও অ-কং, এ-বিজেপি তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার কথা ভাবছেন বলেই খবর৷