নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জন্য পরোক্ষে বিজেপিকে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ একই সঙ্গে মেদিনীপুর, বাঁকুড়া থেকে আসা রোগীর পরিজনদের উদ্দেশ্য মমতার কটাক্ষ, ‘বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন তো এবার বুঝুন৷’

এনআরএসে দুই ইর্ন্টান চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনার পর রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে চলছে ডাক্তারদের কর্মবিরতি৷ বৃহস্পতিবার সেই কর্মবিরতি পড়ল তৃতীয় দিনে৷ পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার তো কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ উল্টে আরও জটিল হচ্ছে৷ পরিষেবা না পেয়ে রোগীর পরিজনেরা চরম ক্ষুব্ধ৷ অপরদিকে নিরাপত্তার দাবিতে অনড় জুনিয়র ডাক্তাররা৷

এই পরিস্থিতিতে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৃহস্পতিবার তিনি রাজ্যের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আসেন৷ সেখানে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি কার্যত কঠোর মনোভাব নিতে দেখা যায় তাঁকে৷ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, চার ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে৷ না হলে যারা কাজে যোগ দেবেন না তারা হোস্টেল খালি দিন৷

এসএসকেএমে আসার পর মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা ‘ইউ ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে থাকেন৷ কিন্তু চিকিৎসকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা কাজে ফিরুন৷ পরিষেবা স্বাভাবিক করুন৷ রোগীদের পরিষেবা দিতে হবে৷ এসএসকেএমে নেমে হনহন করে হেঁটে আউটডোর বিভাগে জানান৷ সেখানে রোগীদের দেখে বলেন, অনেকে বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া থেকে অনেকে এসেছেন৷ চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন৷ আপনারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন৷ এবার বুঝুন৷ চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি চলছে৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি হাসপাতালে ঢুকেছে বহিরাগতরা৷ তারাই অশান্তি বাঁধাচ্ছে৷ এর পিছনে বিশেষ রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি৷ মমতা বলেন পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কমিশনার নিজে এসেছিলেন৷ কিন্তু এরা কারোর কথাই শুনছে না৷ যারা কাজ করবেন না, তারা হস্টেলে থাকবেন না, হস্টেল খালি করে দিন৷ যারা কাজ করবেন না, তাদের সরকার কোনও সাহায্য করবে না৷

বৃহস্পতিবার এসএসকেএমে পৌঁছে রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷ উল্লেখ্য এখনও সরকারি হাসপাতালগুলিতে বন্ধ জরুরি পরিষেবা৷ এদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এদিন রীতিমত কড়া মনোভাব নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে আসেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কড়া বার্তা দেন জুনিয়র ডাক্তারদের৷ কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা৷