স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গত এক দশকে এছবি বড়ই বেমানান হরিশ চ্যাটার্জী স্টিটের৷ ফল ঘোষণা হলেও লোক নেই৷ আনাগোনা নেই তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের৷ দিদির ভায়েরাও উধাও৷

বাংলায় ঘাসফুল ফুটলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ভাইয়েরা সব কালীঘাটে দিদির বাড়িতে চলে আসত। তাদের ভিড়ে উপচে পড়ত হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। বিশেষ করে ২০১১ সালের পর থেকে সেই ভিড় আরও বেড়েছিল। কিন্তু এবার ছবিটা একদম উল্টো। ভোটের রেজাল্টের পর এলাকার এই অচেনা ছবি দেখে অবাক হচ্ছেন দিদির পাড়ার লোকেরাই।

আরও পড়ুন: মমতাকে নবান্নের ঠিকানায় ‘জয় শ্রী রাম’ লেখা কুর্তি পাঠালেন বিজেপি নেতা

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ঢুকতেই বাঁ দিকে রয়েছে একটি পানের দোকান। একসময় মমতাও ছিলেন এই দোকানের খদ্দের। সেই দোকানের মালিকের কথায়, কি যে হল বুঝলাম না। সব চুপচাপ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। দিদির মন খুবই খারাপ। এবার পার্টির কোনও ছেলে মেয়েরা এখানে আসেনি।

রাস্তার মুখেই রয়েছে ফাস্টফুডের দোকান। সেই দোকানের এক ছোকরার বক্তব্য, অন্য সময় ভোটের রেজাল্টের পর এখানে যে ভিড় হয় তাতে দু-তিনদিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়। এবার তো কেউ এলই না। বৃহস্পতিবার বেলা যত বেড়েছে ততই ফাঁকা হয়েছে গলি৷

আরও পড়ুন: বৈঠকে মমতার বকুনি খেলে পদ্ম শিবিরে আশ্রয় নিতে পারেন অনেকেই

নিজের ওয়ার্ডেই দলকে জেতাতে ব্যর্থ মমতা৷ কিন্তু কেন এমন হল? মমতার বাড়ির লাগোয়া বাসিন্দা তপন দাস বলেন, বাংলায় একটা চোরাস্রোত বইছিল। আমাদের এখানেও সেটা ছিল। আসলে দিদি ভালো। কিন্তু দিদির চারপাশে যাঁরা থাকে তাঁরাই এখানে মানুষের সঙ্গে দিদির দুরত্বটা তৈরি করেছে। তাঁদের এত বাড়াবাড়ি এলাকার মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।

ভোটের রেজাল্ট পর থেকেই ঘরে নিজেকে বন্দি করে রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত দুদিনে ববি হাকিম আর অভিষেক এসে দিদির সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন শুধু। বাকিরা দিদির বকুনিতে পালানোর পথ খুঁজছে৷