ডিস্ট্রিক্ট নিউজ ডেস্ক: দার্জিলিং জয়ে পাহাড়ে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ‘ভূমিপুত্র’ ইস্যুকে হাতিয়ার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ জানিয়ে দিলেন, বহিরাগতকে একটি ভোটও নয়৷ তাঁর আহ্ববান, দিল্লি থেকে মোদী সরকারকে হঠাতে এবার ভোট দিন স্থানীয় বাসিন্দা তৃণমূল প্রার্থীকে৷ এনআরসিকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস পাহাড়ের গোর্খা বাসিন্দাদের অস্বিস্ত সংকট যাতে না হয় তা নজরে রাখবে জোড়াফুল শিবির৷

আরও পড়ুন: মুসলিম মহিলারা বোরখা পরে এসে ছাপ্পা ভোট দিচ্ছেন : বিজেপি প্রার্থী

পৃথক রাজ্যের আবেদনকে মাণ্যতা দিয়ে ১৪-র ভোটে বিমল গুরুংদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল বিজেপি৷ ফলে দার্জিলিং কেন্দ্রে ভোটের ময়দানে পরাজিত হতে হয় তৃণমূল প্রার্থী বাইচুং ভুটিয়াকে৷ সাংসদ নির্বাচিত এসএস আলুওয়ালিয়া৷ তারপর পাড়াহের চড়াই উতরাইয়ের মতই রাজনীতির পালাবদল হয়েছে৷ একদা সর্বাধিনায়ক বিমল গুরুং বর্তমানে পাহাড় ছাড়া৷ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও জিটিএ-এর দায়িত্বে বিনয় তামাং৷ যিনি আবার মমতা ঘনিষ্ট৷

কিন্তু ভোটের সময় নিশ্চিৎ পরাজয় মানতে পারেননি বিমল গুরুং৷ গুপ্ত স্থান থেকেই বার্তা দিয়েছেন পাহাড়বাসীকে৷ তাঁর সঙ্গে এবারও রয়েছে গেরুয়া শিবির৷ বর্তমানে দিল্লি নিবাসী মণিপুরের রাজু সিং বিস্তকে প্রার্থী করেছে বিজেপি ও গোর্খার বিমল পন্থীরা৷ পদ্ম পতাকা হাতে প্রচারও করছেন তিনি৷

আরও পড়ুন: নাম না করে বিমল গুরুং-রোশন গিরিদের পাশে দাঁড়ালেন অমিত শাহ

হিমালয়ের পাদদেশের লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি বধে তাই মমতার তরুপের তাস ‘ভূমিপুত্র’ ইস্যু৷ প্রচারে পাহাড়ী মানুষকে স্মৃতি রোমন্থনের কথা বলছেন তিনি৷ জানতে চাইছেন দিল্লি থেকে এসে বিজেপি সাংসদ এসএস আলুওয়ালিয়া কী কাজ করেছেন?

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় ফিরলে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ খতম করার প্রতিশ্রুতি মোদীর

এদিন তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘আমরা দিল্লি থেকে প্রার্থী আনি না৷ তৃণমূল ও গোর্খা মুক্তি মোর্চা জোটের প্রার্থী এবার স্থানীয় বাসিন্দা৷ বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপি এবার মণিপুর থেকে প্রার্থী দিয়েছে৷ এরা ভোটে জিতে চলে যাবে৷ কাজ করবে না৷ জবাবও চাইতে পারবেন না৷’’

মমতার অভিযোগ, ‘‘জিটিএ-এর মাধ্যমে বহু কাজ করার সুযোগ ছিল গুরুংদের সামনে৷ কিন্তু এরা টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে৷’’ এদিন বিজেপি সবাপতিও দার্জিলিং-এ নির্বাচনী প্রচার করেন৷ এনিয়ে মমতার কটাক্ষ, ‘‘হেলিকপ্টারে এসে অমিত শাহ ভাষণ দিয়ে চলে যাচ্ছেন৷ কিন্তু উন্নয়নের কাজ করে না কেন্দ্র৷ এরা  ভোটের আগে আশ্বাস দেয় কিন্তু ভোটে ফুরোলে পালিয়ে যায়৷’’ এদিনের প্রচারে দার্জিলিংয়ে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর আবেদন, দিল্লি জয়ে ৪২-এ ৪২-ই লক্ষ্য তৃণমূলের৷

আরও পড়ুন: সবুজ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে কংগ্রেস: যোগী

দার্জিলিং-এ লড়াই এবার তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির৷ প্রাথমিকপর্বে জোড়াফুল শিবির জয়ের গন্ধ পায়৷ কিন্তু অবস্থার বদল ঘটে বিমল গুরুং মেঘনাথের মতো আড়াল থেকে লড়াই শুরু করতেই৷ হালে পানি পায় বিজেপি৷ পাহাড়ের সব রাজনৈতিক দলকে জোট বেঁধে তৃণমূলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আবেদন করেন গুরুং৷ যা কাঁটা বলেই মনে করছে রাজ্যের শাসক শিবির৷ অন্যদিকে মমতা জানেন, শুধু সমতলের ভোটে দার্জিলিং জয় অধরা থেকে যাবে৷ এই প্রেক্ষাপটে ভোট জিততে তাই পাহাড়ের উন্নয়ন, জিটিএ, নোটবন্দি, জিএসটি-র পাশাপাশি ‘ভূমিপুত্র’ ইস্যুকে পুঁজি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷