কলকাতা: দূরত্ব জারি রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যাচ্ছেন না তিনি৷ সংসদ বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷
সংসদে সদস্য রয়েছে তেমন সব রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ বুধবার নয়াদিল্লিতে হবে এই আলোচনা৷ তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসাবে সেখানে আমন্ত্রিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

১৯ জুন থেকে শুরু লোকসভার অধিবেশন৷ সেই অধিবেশনে গঠনমূল আলোচনার জন্য সব রাজনৈতিক দলের কাছেই আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ বিরোধী বিভিন্ন দলের সাংসদ সংখ্যা এক্ষেত্রে বাধা নয় বলে সোমবারই জানিয়েছিলেন তিনি৷ এছাড়াও জানা গিয়েছে, ‘এক দেশ, এক সময় ভোট’ নিয়েও আলোচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: কে বেশি সহানুভূতিশীল, পরিবহর পরিবারকে নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি তরজা

গত কয়েকবছর ধরেই বিজেপির দাবি লোকসভার সঙ্গেই বিধানসভায় ভোট হোক৷ এতে খরচ কমবে, সঙ্গে বাঁচবে সময়৷ ভোটে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হওয়ায় উন্নয়নের কাজও ব্যাহত হয়৷ সেই কাজও দু’ই ভোট একসঙ্গে হলে আটকে থাকবে না৷ সরকারের এই ফর্মুলাই কী শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে৷

২০১৮-এর মাঝামাঝি সময় থেকে এই সম্ভাবনার কথা মাথাচাড়া দিয়েছিল৷ প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল দেশের বিরোধী দলগুলি৷ এদিন কেন্দ্রকে লেখা চিঠিতে তৃণমূল সুপ্রিমো এই বিষয়টির উল্লেখ করেন৷

তিনি লেখেন, আগামীকাল নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে৷ এত কম সময়ে ‘এক দেশ, এক সময়ের ভোটে’র বিযষয়টি আলোচনা করা যায় না৷ শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি করেন মমতা৷ সব দলের কাছে মতামত জানতে চাওয়া হলে তৃণমূলের তরফে তিনি পরামর্শ দেবেন বলে সংসদীয়মন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি৷ সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী মোদীর ডাকা বৈঠকে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছিলেন৷

আরও পড়ুন: ট্যুইটারে রাজ্যের এই বিজেপি নেতাকে ‘ফলো’ করেন স্বয়ং মোদী

সব দলের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসতে পারে মহাত্মা গান্ধীর জন্মের সার্ধশতবর্ষ ও স্বাধীনতার ৭৫ বছর পালন উদযাপনের বিষয়টিও৷

দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছেন মোদী৷ হয়েছে নীতি আয়োগের বৈঠক৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী৷ নীতি আয়োগের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ এই আয়োগ অনেকটাই লোক দেখানো বলে দাবি তাঁর৷ এরপর বুধবারের বৈঠকেও যাবেন না বলে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ সংকীর্ণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে যাননি প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানেও৷