কলকাতা:  বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে ফের একবার বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মঙ্গলবার বিদ্যাসাগর কলেজে ভেঙে যাওয়া বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি ফের পুনপ্রতিষ্ঠা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তা করার পরেই মূর্তি ভাঙা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন মমতা। তাঁর নিশানায় ছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সরাসরি তাঁকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, “আজ যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তাঁর জন্যই ভেঙেছে বিদ্যাসাগর মূর্তি। ওরা আমাদের সংস্কৃতি ভেঙে দিতে চায়।” এরপরেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের হুঁশিয়ারি, “বাংলাকে কখনই গুজরাট বানাতে দেব না। তাতে আমায় জেলে যেতে হলেও যাবো। বাংলার মাটিতে থেকে বাংলাকে অপমান করা যাবে না, আমি প্রাণ দিয়ে লড়বো।”

এখানেই শেষ নয়। এই বিষয়ে বিজেপিকে আরও ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গান্ধীজি গুজরাটে যে সন্মান পাননি, বাংলায় পেয়েছেন। বিদ্যাসাগর ভেঙে দিয়ে বর্ণপরিচয় ভেঙে দেওয়া যায় না। আমাদের কৃষ্টিতে আঘাত করে বাংলাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মারাত্মক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, একটা চক্রান্ত চলছে। আর এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সকল মানুষকে একজোট হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সংস্কৃতি থেকে সমাজের সমস্ত মানুষকে এগিয়ে আসার ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার মতে, সবার জন্যে এই গেরুয়া নয়। গেরুয়া পোশাক তাঁদের জন্যেই যারা এই পোশাককে সম্মান করতে পারে। মাথায় ফেট্টি বেঁধে কেউ যদি মনে করে আমি আধুনিক তাহলে এভাবে সংস্কৃতি বদল করা যায় না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মূর্তি ভেঙে পুরো ঘটনার দায় অস্বীকার করা হচ্ছে। পালটা ঘটনার দায় তৃণমূলের উপর চাপানো হচ্ছে। কিন্তু সমস্ত ফুটেজ প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। যেখানে স্পষ্ট গেরুয়া বাহিনীর তাণ্ডবের ছবি। ফলে মিথ্যা কথা বলে কোনও লাভ নেই বলে মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এরপরেই মমতা বক্তব্য, তৃণমূলের কেউ এই কাজ করলে চড় মারতাম।

অন্যদিকে, আজ বুধবার হেয়ার এবং বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের নতুন মূর্তি পুনস্তাপন করেছেন। সেখান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামীদিনে আরও চারটে ব্রোঞ্জের মূর্তি বসানো হবে। পাশাপাশি কাজি নজরুল ইসলামের মূর্তিও গঠন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোট চলাকালীন কলকাতায় অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ধুন্ধুমার হয়ে ওঠে বিদ্যাসাগর কলেজ চত্বর। আর এই সংঘর্ষে ভাঙা পড়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি। তৃণমূলের অভিযোগ, অমিত শাহের রোড শোয়ে অংশগ্রহণকারী বিজেপির লোকজনই ভাঙচুর চালায়। যদিও বিজেপির দাবি, অমিত শাহের গাড়ি পেরিয়ে যাওয়ার পর কলেজের ভিতর থেকে ইটবৃষ্টি শুরু করে তৃণমূল। এরপরেই পুরো ঘটনা পরিস্থিতির বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ। তবে মূর্তি ভাঙার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলেই দাবি বিজেপির।