স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: কখনও মুখ্যমন্ত্রীকে,কখনও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল৷ এবার রাজ্যপালকে বিজেপির লোক বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বলা যায়, ফের মুখ্যমন্ত্রী – রাজ্যপাল সংঘাতে রাজ্য রাজনীতি চরমে উঠেছে৷

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক বৈঠক করেন৷ সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপালের সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এর আগে তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা রাজ্যপালের কড়া সমালোচনা করলেও, এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর কড়া সমালোচনা করলেন৷

এদিন রাজ্যপালকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘বিজেপির পার্টি ম্যানকে নিয়ে আমাকে কোন প্রশ্ন করবেন না৷ আমি কোনও উত্তর দেব না৷ উনি বিজেপির লোক।’এর আগে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যপালের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘উনি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রের মতো কথা বলছেন৷’এবার রাজ্যপালকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ ফের আরও একবার সংঘাত তৈরি হল৷

এবার মুখ্যমন্ত্রীর- রাজ্যপাল সংঘাত শুরু কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে৷ এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যপাল বলেন, “অনেক দরিদ্র মানুষ আছেন, যারা চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না৷ তাই আমার কাছে তিন হাজারেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। দেখা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই যোগ্য৷ স্বাস্থ্যই মানুষের সম্পদ৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা উচিৎ নয়।”

রাজ্যের নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে রাজ্যপাল আরও বলেছেন, “কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে রাজ্য অন্তর্ভুক্ত করুক। রাজ্যে স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। রাজনীতির মধ্যে স্বাস্থ্যকে যুক্ত করবেন না।” এই মন্তব্যের পরেই তিনি রীতিমত রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্পে সাধারণ মানুষ একদমই উপকৃত নয়। যার পরেই তিনি তুলনামূলক আলোচনা করে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্প সূচনার কথা বলেছেন।

কিছুদিন আগে উত্তরবঙ্গে, উত্তর চব্বিশ পরগণায় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে দেখা করে বৈঠক করেছেন যেখানে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কেউ উপস্থিত ছিল না৷ তারপরও তিনি রাজ্য সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন। এছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে ‘হেনস্থা’ থেকে বাঁচাতে সেখানে পৌঁছেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তারপরেই শুরু হয় রাজভবন-রাজ্য সরকারের সংঘাত। রাজ্যপালের ভূমিকায় দেওয়া হয় রাজনৈতিক তকমা৷