ফাইল ছবি

ধুবড়ি: অসমের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই রাজ্যের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ প্রশ্ন তুললেন সারদা কর্ণধারে’র থেকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা টাকা নিলেও কেন তাঁকে বিজেপি সরকার ধরল না? মমতা’র চ্যালেঞ্জ, হিমন্তর বিরুদ্ধে মেলা সব তথ্যের ভিত্তীতে মামলা করুক তৃণমূল প্রার্থী৷ তদন্ত হলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে৷

আরও পড়ুন: মাঠ এক, বক্তা মোদী-মমতা, ঝামেলা শুরু

সারদা চিঠফান্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িত তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী, সাংসদ নেতারা৷ নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় এসে চলতি সপ্তাহেই এই অভিযোগ করছেন প্রধানমন্ত্রী৷ কোচবিহার থেকেই মোদীর অভিযোগের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা৷ বলেন, ‘‘সিবিআইকে লেলিয়ে দিয়ে মিথ্যে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে৷’’ পালটা বলেন, অসমে বিজেপির মন্ত্রী সারদা কর্ণধারের থেকে টাকা নিয়েছিলেন৷ সুদীপ্ত সেনই এই দাবি করেছে৷ তাঁর প্রশ্ন, কেন তবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে মোদী সরকার কেন ব্যবস্থা নিল না৷

এদিন অসমের ধুবড়িতে নির্বাচনী সভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ সেখানে চিটফান্ড প্রসঙ্গে তোলেন মমতা৷ মোদী সরকারের সিবিআইকে ব্যবহার করা নিয়ে সমালোচনা করেন৷ প্রশ্ন ছুড়ে দেন কেন অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল না বলে৷ এরপরই মঞ্চে উপস্থিত তৃণমূল প্রার্থীদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, ‘‘হিমন্তের বিরুদ্ধে যেসব কাগজ জোগার করেছি তা দিয়ে যাচ্ছি৷ প্রয়োজনে মামলা করুন৷ তবেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য৷’’

আরও পড়ুন: দল নিয়ে হতাশ, মমতার প্রশংসা বিজেপি মুখপাত্রের

প্রত্যাশা মতোই অসমে গিয়ে এনআরসি-কে হাতিয়ার করে মোদী সরকারের নিন্দা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এনআরসি আসলে বিজেপির দেশ ভাগেই চক্রান্ত বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী৷ বলেন, ‘‘৪০ লক্ষ মানুষের নাম এনআরসির ফলে বাদ পড়েছে৷ এর মধ্যে ২২ লক্ষ মানুষ হিন্দু৷ ওদের অতই যদি হিন্দু-প্রীতি তাহলে অন্যায়ভাবে তাদের বাদ দেওয়া হল কেন? কেন পাঁচ জনকে খুন করা হল?’’

এনআরসির নিয়ে তৃণমূলের বিরোধীতা বোঝাতে মমতা বলেন, ‘‘গতবছর জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর খসড়া থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়তেই আমি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে ছিলাম৷ আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ এফআইআর করা হয়েছে৷ আসলে অত্যাচার প্রকাশ্যে এসে পড়বে বলেই ভয় পেয়েছিল বিজেপি সরকার৷’’

আরও পড়ুন: বিষ্ণুপুরে ঢুকতে পারছেন না, তাই এবার সুপ্রিম কোর্টে সৌমিত্র খাঁ

মমতার অভিযোগ, ‘‘প্রতিশ্রুতির নামে লালি-পপ দেন মোদী৷ এতে ভুলে যাবেন না৷ মনে রাখবেন, ভোট এলে প্রতিশ্রুতি, পরে রক্তচক্ষু দেখায় ওরা৷ উদ্বাস্তুদের নানা মতে ভুল বোঝাবে ওরা৷ কিন্তু বিশ্বাস করবেন না৷’’ ধুবড়ির মঞ্চ তেকেই অসম জয়ের ডাক দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী৷ জানিয়ে দেন, ‘‘অন্যায় হলে তৃণমূল সব সময় লড়াই করবে৷ তাই ভোটে জোড়াফুল প্রার্থীদের উপর আস্থা রাখুন৷’’

১৯শের লড়াই জিততে মোদীর নজরে বাংলা৷ উল্টো দিকে বিজেপি শাসিক রাজ্যে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে পদ্ম শিবিরকে তাপে রাখতে চাইছেন মমতাও৷ অসমে করিমগঞ্জ, শিলচর, ধুবড়ি, কোকড়াঝাড়, বরপেটা ও গুয়াহাটি১০টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল৷ অসমবাসীর প্রতি তাঁর আহ্ববান, ‘‘তৃণমূল প্রার্থীরা একান থেকে লোকসভায় জিতলে বাংলার মতই আমি রাজ্যে আসব৷ অসমের উন্নয়নে কাজ করব৷

আরও পড়ুন: চৌকিদার’কে জেলে পোরা’র হুঁশিয়ারি রাহুল গান্ধী’র

অসম জয়ে একদিকে এনআরসি, অন্যদিকে সারদা কেলেঙ্কারিতে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে পুঁজি করে ভোটযুদ্ধে তৃণমূল৷ গণতন্ত্র উপভোগ করতে অসমে বদলের ডাক দেন তৃণমূ নেত্রী৷