স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: মানুষ আশায় ছিলেন৷ চলতি বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয়বার কোচবিহার সফর থেকে কিছু বাড়তি প্রত্যাশা করেছিলেন আম জনতা৷ আশা মিটল৷ পড়ে থাকা প্রকল্পগুলির ধীর গতির জন্য প্রশাসনিক কর্তারা কার্যত ধমক খেলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷

কোচবিহারের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী পরিস্কার জানিয়ে দিলেন ছিটমহলের মানুষের জমির মালিকানা দেওয়ার জন্য তিন দিনের মধ্যে অর্ডিন্যান্স আনতে হবে৷ আধিকারিকদের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিটমহলের সকলকে জমির অধিকার দিতে হবে৷

দুদিনের সফরে আজ কোচবিহারে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী৷ সোমবার প্রথমে বাগডোগরা থেকে হেলিকপ্টারে কোচবিহারে যান৷ সেখানে উৎসব নামে একটি অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন করেন৷ পরে সেখানেই কোচবিহার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থরের জনপ্রতিনিধি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন তিনি ছিট মহলের মানুষ চুক্তি অনুযায়ী সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন কিনা তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের কাছে সঠিক উত্তর না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। এরপরেই প্রশ্ন তোলেন এখনও কেন ছিটমহলের মানুষরা জমির অধিকার পায়নি৷ এদিন ভূমি দফতরের আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। তিন দিনের মধ্যে অর্ডিন্যান্স জারি করে ছিটমহলবাসীদের জমির মালিকানা দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এদিন যে সব বিধানসভার মধ্যে ছিটমহলগুলি পড়েছে, সেই সব বিধায়কদের ছিটমহলের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি।

পাশাপাশি, ছিট মহলের উন্নয়নের অর্থ নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকেও একহাত নেন৷ মমতার অভিযোগ, ছিটমহলের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র যে টাকা দেবে বলেছিল, তা দেয়নি৷ রাজ্য সরকারই নিজেদের টাকা দিয়ে উন্নয়ন করছে।

আরও পড়ুন : শক্তি বাড়িয়ে বিজেপিতে যোগ পঞ্চায়েত প্রধান সহ বহু নেতা কর্মী

এদিনের বৈঠকে বিভিন্ন বিভাগের কাজকর্মের অগ্রগতি নিয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি৷ জেলায় চার ব্লকে ১০০ দিনের কাজের অগ্রগতি কম হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়াও গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদের নতুন জয়ী প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের ভর্ৎসনা করেন৷ তিনি বলেন নিয়মের অজুহাত দেখিয়ে কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না৷ সব কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দেন তিনি৷

আরও পড়ুন : বিজেপির উপর নজর রাখতে নির্দেশ শুভেন্দুর

ছিটমহলের মানুষদের জমির অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি, জেলার বিভিন্ন দফতরের কাজ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নিয়ে বিদ্যুৎ দফতরের কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন বিদ্যুৎ দফতর বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে পারছে না৷ তাদের কাজে গাফিলতি রয়েছে৷ মানুষকে বুঝিয়ে সচেতন করে এই বিল আদায় করতে হবে। মঙ্গলবার কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী।