দেবময় ঘোষ, কলকাতা: প্রায় চার বছর এক মাস পর সরকারি কর্মীদের জন্য ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা করতে পারে রাজ্য সরকার। এই দীর্ঘ সময়কে অনেক সরকারি কর্মীই নজিরবিহীন বিলম্ব বলে দাবি করেছেন।

রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে, পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় পয়লা জানুয়ারি ২০০৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০০৮ – এই ২৭ মাস নোসোনাল এফেক্ট হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার পয়লা এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০০৯ – এই এক বছর পঞ্চম বেতন কমিশনের বর্ধিত বেতন দুটো কিস্তিতে কর্মীদের দিতে চেয়েছিল। সেই মতো, ২০১০ সালে প্রথম কিস্তি পেয়েছিল সরকারি কর্মীরা। এরপর রাজ্যে পরিবর্তন আসে। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি, দ্বিতীয় কিস্তিকে দুটি ভাগে ভাগ করে কর্মীদের দেন। সেক্ষেত্রে মোট তিনটি কিস্তি হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সরকারি কর্মচারী মতে তা অযৌক্তিক এবং অন্যায়।

২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর রাজ্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু হয়। এরপর কমিশনের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হতেই থাকে। প্রথমে ৬ মাস, তারপর আরও এক বছর করে দু’বছর, তার পর ৬ মাস এবং পরবর্তীকালে ৭ মাস দীর্ঘায়িত হয়। বাড়ানো হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৪ বছর ১ মাস।

পড়ুন: মাত্র ১০ মিনিটেই পেয়ে যান e-PAN কার্ড

বিজেপি প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের বক্তব্য, ২৭ নভেম্বর ২০১৫ সাল – ষষ্ঠ বেতন কমিশনের গঠনের দিন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারী আছে বলে ধারণা করা হয়। এটা একটা ধারণা। সব কর্মচারী বেতন কমিশনের আওতায়।”

তবে এটা ঠিক, রাজ্য সরকারের চোখে সকল সরকারি কর্মচারী সমান নয়। প্রথমেই যারা আছেন তাঁরা হলেন, সরকারের সার্ভিস রুলের আওতায় পড়া কর্মী। এই কর্মীরা সচিবালয়, ডিরেক্টরেট এবং আঞ্চলিক – এই তিন ভাগে বিভক্ত। বেতন কমিশনের সুবিধা প্রথমে এরাই পাবেন। এরপর, সরকারি অধীনস্থ সংস্থা, করপোরেশন, শিক্ষক, প্যারা টিচার এবং অন্যান্যরা পাবেন।

৩৪ বছরে বামফ্রন্ট সরকার ৫ টি বেতন কমিশন দিয়ে গিয়েছেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ষষ্ঠ বেতন কমিশন দিতে চাইবেন। কারণ, লোকসভা নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় হার হয়েছে।