মালদহ: পশ্চিমবঙ্গ স্বাধীনতা পেয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পায়নি। মঙ্গলবার মালদহের গাজলে কলেজ মাঠের জনসভায় এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জন্য সিপিএমকে দায়ী করে তিনি বলেন, “সিপিএম বাংলাকে দেনায় রেখে গিয়েছে। ঋণের দায় নিয়ে বাংলা স্বাধীনতা পেলেও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পায়নি।’’ কেন্দ্রীয় সরকারও পশ্চিমবঙ্গকে আর্থিকভাবে বঞ্চনা করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বাংলাকে টাকা না দিলে বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দিতে হবে দাবিতেও সরব হন তিনি।

এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কেবল আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলেই ক্ষান্ত হননি মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন তিনি। বলেন, “দেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।’’ তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না এবং ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্থান হামারা’ মতবাদে বিশ্বাসী বলে দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সরকার ঘৃণা নয়, একতায় বিশ্বাসী। তাই এ রাজ্যে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে দেবেন না বলেও গাজলের মাঠে দাবি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সহিষ্ণুতা-অসহিষ্ণুতা নিয়ে মোদী সরকারকে একহাত নেওয়ার পাশাপাশি সিবিআই নিয়েও কেন্দ্রকে তোপ দাগেন তিনি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে সিবিআই হানা প্রসঙ্গে সেই পুরানো সুরে মমতা বলেন, “কেন্দ্রের ইশারায় সিবিআই চলছে।’’ তবে কেন্দ্রের এত বিরোধিতা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে চলছে দাবি জানিয়ে গত চার বছরে তাঁর সরকারের কাজের বৃত্তান্ত তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গাজলের কলেজ মাঠে জনসভা করার পাশাপাশি এদিন মালদহে একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ভাঁড়ার ‘শূন্য’ সত্ত্বেও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়া মালদহের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পীদের জন্য ‘শিল্প তীর্থ’ স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন।