কোচবিহার: ফের কেন্দ্রে আসীন বিজেপি সরকারের উপর ধারালো আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিটিজেনসিপ অ্যামেণ্ডমেণ্ট ২০১৯ বিলকে সংসদে পেশ করার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে এই বিলকে এনআরসির মত ‘ফাঁদ’ বলে তুলনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এই ভাবনা বাঙালি এবং হিন্দুদের বৈধ নাগরিক হিসেবে বাদ দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানা গিয়েছে, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এই বিল পেশ করা হবে। সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে ২৫০তম রাজ্যসভা। সিটিজেনসিপ অ্যামেণ্ডমেণ্ট বিলের পাশাপাশি তিনি মোদী সরকারের আমলে দেশের অর্থনৈতিক শ্লথতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পাবলিক সেক্টরের দ্বারা পরিচালিত সংস্থাগুলিকে তিনি পুরায় উজ্জীবিত না করে তা শুধুই বিক্রি করতে বেশি উৎসাহী।

সোমবার কোচবিহারে দাঁড়িয়ে একথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহার এক দিকে অসম লাগোয়া, অন্য দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত। অসমে এনআরসি চালু করার পরে সব থেকে বেশি আঁচ যদি পশ্চিমবঙ্গের কোনও জেলায় লেগে থাকে, তা কোচবিহার, পাশাপাশি বলছেন এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই। কোচবিহার রাজবংশীদের অন্যতম বাসস্থানও। অসমে এনআরসি-তে বহু রাজবংশীর নাম বাদ গিয়েছে বলেও দাবি করেছে তৃণমূল। এখন এখানে দাঁড়িয়ে এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, এই প্রচার তিনি জারি রাখবেন। এনআরসি আর প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিল, দুটোই যে আসলে একই, তাও এদিন উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নাগরিকত্ত্ব সংশোধনী বিল পাশ পেশ করতে চায় সরকার। যে বিলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের হিন্দু, জৈন, খ্রিশ্চান, শিখ, পার্সি এবং বৌদ্ধদের কোনও নথি না থাকলেও, সাতবছর ভারতে থাকলেই তাঁদের নাগরিকত্ত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শরণার্থী সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার গড়ার পর কোচবিহারের শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পদক্ষেপ নিলেও আমরা কখনও কোন শর্ত দিইনি যে তাঁদের ছয় বছর এই দেশে থাকতে হবে।”

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের বৈধ নাগরিকত্ত্ব থেকে বাঙালি ও হিন্দুদের বের করতে এবং নিজের দেশেই তাঁদের উদ্বাস্তু বানাতে, এনআরসির মতোই এটাও একটা ফাঁদ। আমরা পুরোপুরিভাবেই এর বিরুদ্ধে। এই ভাবনা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কোচবিহারে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। এছাড়াও ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয়বার দলের ক্ষমতায় ফেরা নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।