স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘বিনাশ কালে বুদ্ধিনাশ’ – মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার্তা দিয়ে গেলেন জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। বিজেপির কার্যকরী সভাপতি বলে গেলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও লক্ষ্য নেই। কিছুই দেওয়ার নেই। যেখানে যুক্তি শেষ হয়ে যায় সেখানেই হিংসা শুরু হয়। বড়বাজার ঘাটে নিহত বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে শনিবার নাড্ডা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ চলছে। বিজেপির ৮০ জন কর্মী খুন হয়েছে। গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করে ‘স্টেট টেররিজম’ চলছে। আইনের শাসন নেই।

বিপরীত বিচার ধারার মানুষের উপর শারীরিক নির্যাতন বাড়ছে। খুন বাড়ছে। আর্তরা বিচারও পায় না। যারা খুন হয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হলো। তদন্তই শুরু হয়নি। বুঝুন কি অবস্থা। নাড্ডা বলেছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩ হাজারের বেশি লোক গ্রাম ছাড়া ছিলেন। এখনও ৮০০ মানুষ ঘর ছাড়া। আড়াই হাজারের বেশি শারীরিক আক্রমণ হয়েছে। এক হাজার মানুষ আহত। চিকিৎসা করিয়েছেন। এই পরিস্থিতি থেকে পশ্চিমবঙ্গকে মুক্তি দিতে চায় বিজেপি। নাড্ডার মতে, এই রাজ্য ভারতের গর্ব।

সংস্কৃতি এবং শিক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ নজির গড়েছে ভারতের মনীষীর এই ভূমি থেকেই এসেছেন। কিন্তু শেষ ৪০ বছর এখানে পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের গৌরব ফিরিয়ে দিতে চায় বিজেপি। শুক্রবারই নাড্ডা আর্টিকেল 370 নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন। জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আর্টিকেল 370 বিলোপের বিরোধিতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার স্বার্থে করেছেন? দেশ বড় না ভোটব্যাংক বড় – কলকাতায় প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। নাড্ডা বলেছেন, দেশ থেকে বড় ক্ষমতা, ক্ষমতার চেয়ার? এ কীরকম রাজনীতি করেন মমতা।

একধাপ এগিয়ে নাড্ডা শুক্রবার বলেন, রাজনীতিতে কেউ আসবে কেউ যাবে। কিন্তু, দেশ সব কিছুর উর্ধে। আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করবেন, তিনি কি কারণে আর্টিকেল 370 বিলোপের বিরোধিতা করেন। ওর কাছে জবাব থাকবে না। বিনাশ কালে বুদ্ধিনাশ হয়। দেওয়ালের লিখন স্পষ্ঠ, মমতা যাবেন। আমরাই (বিজেপি) আসবো।