স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২১শের মঞ্চে তৃণমূল নেত্রীর নিশানায় বিজেপি৷ কিন্তু, ছাড় পেল না কংগ্রেস সিপিএম-ও৷ চড়া সুরে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কটাক্ষ করে বললেন, ‘‘সিপিএমের ৩৪ বছরের হার্মাদ আজ বিজেপির ওস্তাদ৷’’ লোকসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের৷ ৪২-এ ৪২-এর ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷

কিন্তু, মিলেছে মাত্র ২২টি আসন৷ সংগঠনও দুর্বল হয়েছে৷ বাড়বাড়ন্ত বিজেপির৷ শতাংশের বিচারে তাদের ভোট বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশে৷ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বাম কংগ্রেসের ভোট৷ ফলাফল বিশ্লেষণেই স্পষ্ট বামে-কংগ্রেসের ভোট স্থানান্তরিত হয়েছে গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে৷ এই প্রেক্ষাপটেই এদিন তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘বাম কংগ্রেসের লজ্জা হওয়া উচিত৷ এদের হার্মাদরাই আজ বিজেপিতে আশ্রয় নিয়েছে৷ এলাকায় এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে৷’’ উদাহরণ হিসাবে তিনি তুলে ধরেন খেজুড়ি, কেশপুর গুড়াপের কথা৷ এরপরেই তাঁর সংযোজন ‘‘সিপিএমের ৩৪ বছরের হার্মাদ আজ বিজেপির ওস্তাদ৷’’ বিজেপির উত্থান ঠেকাতে এর আগে বামেদের সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

লোকসভা ভোটের পরে ফের তার পুনরাবৃত্তি৷ বাংলায় বিরোধী কংগ্রেস সিপিএমকে ভোটের পরেই সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি৷ বিধানসভায় দাঁড়িয়েই বাম-কংগ্রেসকে জোট গড়ার প্রস্তাব দেন৷ যা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি৷ কাস্তে হাতুড়ি বা হাত শিবিরের পক্ষ থেকে পত্রপাঠ তৃণমূল নেত্রীর প্রস্তাব নাকচ করা হয়৷ মনে করা হচ্ছিল, গেরুয়া ঝড় তৃণমূলের পক্ষে একা রদ করা সম্ভব নয় বলেই মমতা পাশে পেতে চাইছে বাম ও কংগ্রেসকে৷ যা অস্বস্তিতে ফেলে জোড়াফুল শিবিরকে৷ এই প্রেক্ষাপটে এদিন বাম ও কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণের ঘটনা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

চড়া সুরে তৃণমূল নেত্রী এদিন বিজেপিকে পরগাছা বলে সমালোচনা করেন৷ তুলে ধরেন বিজেপি-বাম ও কংগ্রেসের এক হয়ে তৃণমূল বিরোধীতার বিভিন্ন ঘটনা৷ লোকসভায় খারাপ ফল৷ কমেছে মানুষের সঙ্গে দলের নেতা কর্মীদের সংযোগ৷ এই অবস্থায় তাই নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতেই মমতার এই কৌশলী আক্রমণ৷ মমতার আক্রমণ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘‘বিজেপি মানুষকে সম্মান দেয়৷ কে কোথায় যাবে, রাজনীতি করবে সেটা ব্যক্তির বিষয়, যে পার্টিতে যোগ দেবেন তাদের বিষয়৷ উনি হতাশ হয়ে পড়েই একথা বলছেন৷’