স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলায় ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা। একলাফে পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ ছুঁয়েছে। বাংলায় করোনার বলি হয়েছেন ছয়। যদিও সংবাদমাধ্যমের এই তথ্য মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এ রাজ্যে ছয় নয়, তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৫ মার্চের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় এখনো পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যু হলেও তাঁদের মৃত্যুর জন্য সংক্রমণই দায়ী এমনটা মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, ”আজ বিকেল ৪টে পর্যন্ত রাজ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৭ জনের মধ্যে ৩ জন সুস্থ। এখন ৩১ জন পজিটিভ। ওঁদের মধ্যে ১৭ জন ৪টি পরিবারের। একজনের মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়ায়, আরেক জনের মৃত্যু হয়েছে কিডনির সমস্যায়। সরকারি তথ্যের উপর চোখ রাখুন”।

এব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হয়ে সংবাদ পরিবেশনের উপদেশও দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, জারি রয়েছে মহামারি আইন। মানে যে কোনও গ্রেফতার করা যেতে পারে যে কাউকে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পাওয়ার জন্য করোনারোগী ভর্তি রয়েছে বলে দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাদের সাবধান করে দেন মমতা। বলেন, লড়াইয়ের এই সময়ে এমন প্রচার চালাবেন না।

হাসপাতালগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত ৬ জনের প্রথম জনের মৃত্যু হয় যুবভারতী স্টেডিয়ামের পিছনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। দ্বিতীয় জনের মৃত্যু হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মঙ্গলবার ভোরে তৃতীয় জন মারা যান হাওড়া জেলা হাসপাতালে। মঙ্গলবার চতুর্থ ও পঞ্চম জনের মৃত্যু হয় যথাক্রমে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে। বুধবার সকালে ষষ্ঠ জনের মৃত্যু হয়েছে রথতলার একটি নার্সিংহোমে।

এর আগে রাজ্যে ডেঙ্গুতে সংখ্যা কম করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল সরকারের বিরুদ্ধে। এবার করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়েও শুরু হল একই বিতর্ক।

এদিন রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ”আগামী ২ সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দয়া করে লকডাউন মেনে চলুন। অযথা বাজারে ভিড় করবেন না। এই পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ে খেলবেন না। নিজেকে ভাল রাখতে বাড়িতে থাকুন। এ সময় সেদ্ধ ভাত খান, কিন্তু পেট ভরে খান। এই লড়াই সকলে মিলে লড়তে হবে। রাস্তাঘাটে ঘুরবেন না, আড্ডা মারবেন না”।

ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন করোনা আক্রান্ত ৩জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে প্রথম আক্রান্ত আমলাপুত্র। বাড়ি ফিরলেন বালিগঞ্জের ব্যবসায়ী ও হাবড়ার বাসিন্দা স্কটল্যান্ডের তরুণী। এখনও ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনেই থাকার নির্দেশ।