স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ক্লাবগুলোকে টাকা দিয়ে কোনও লাভই হয়নি। লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখার পর এখন এই আক্ষেপই করছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড়ে তছনছ হয়ে গিয়েছে ঘাস ফুলের সাজানো সংসার। দলের অপ্রত্যাশিত খারাপ ফলের পর্যালোচনা করতে শনিবার রিভিউ কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন দিদি। বিশেষ সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে খারাপ ফলের জন্য অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অরূপ বিশ্বাসকেও কড়া কথা শুনিয়েছেন মমতা। এদিন অরূপের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “ক্লাবগুলোকে যে টাকা দিলি তাতে কি লাভ হল? সব তো বিজেপিকে ভোট দিল। আমি তোকে টাকা দিতে বারণ করছি না। কিন্তু এবার টাকা দেওয়ার আগে ক্লাবগুলোর অডিট রিপোর্ট দেখে নে।” উল্লেখ্য, ক্রিড়া ও যুব কল্যাণ দফতর ক্লাবগুলোকে দু’লাখ করে টাকা দিয়েছিল। সেই দফতরের মন্ত্রীই হলেন অরূপ বিশ্বাস।

রাজ্যের প্রায় সাড়ে তিন হাজার ক্লাবকে দু’লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সব সমালোচনা হজম করে নিয়েছিলেন মমতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের রেজাল্ট দেখে মমতা বুঝতে পারছেন এই অনুদান দিয়ে দলের খুব একটা লাভ কিছু হয়নি।

জানা গিয়েছে, হুগলির আসন হারানো নিয়েও মমতা বৈঠকে যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সূত্রের খবর, জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্তকে তিরস্কার করে তিনি বলেন, রত্না এত ভালো ক্যান্ডিডেট হওয়ার পরও কি কিরে ওখানে হেরে যায়? লকেট কিভাবে জেতে? আপনাকে জেলার দায়িত্ব নিতে হবে না। দায়িত্ব ছেড়ে দিন।

এদিন বৈঠকে ছিলেন না উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এলাকায় গন্ডগোল চলছে বলেই ওই বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন রবীন্দ্রনাথবাবু। বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও গরহাজির ছিলেন। ভোটের কারণে অনেক পরিশ্রম গিয়েছে বলে তিনি ক্লান্ত। কয়েকটা দিন বিশ্রাম নিতে চাইছেন বলে জানিয়েছেন দিদির প্রিয় ভাই কেষ্ট। এছাড়াও এই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ঘাটালের সংসদ দেব এবং আসানসোলের পরাজিত প্রার্থী মুনমুন সেন।