কলকাতা: কেন্দ্রের নয়া কৃষি বিল নিয়ে তুমুল বিরোধিতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একইসঙ্গে রাজ্যসভার আট সাংসদের বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়েও কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার রাজ্যসভায় বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের মাঝেই কৃষি বিল পাস করিয়েছে কেন্দ্র। রবিবার দিনটিকে ‘ব্ল্যাক সানডে’ বলে মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় কেন্দ্রের মোদী সরকার। এবার কৃষি বিল নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রকে। গায়ের জোরে কেন্দ্র কৃষি বিল পাস করিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলনেত্রীর।

রবিবার বিরোধীদের তুমুল আপত্তি উড়িয়ে রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটের মাধ্যমে কৃষি বিল পাস করিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এপ্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ব্ল্যাক সানডে ব্ল্যাক সানডে হয়েই থাকবে। ওরা সংবিধান মানে না। গায়ের জোরে বিল পাস করিয়েছে। কৃষক, ক্ষেত-মজদুরদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হল। ’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, আগে ফসলের দাম বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকত রাজ্য সরকারগুলির হাতে। তবে নয়া কৃষি বিল পাস হয়ে যাওয়ায় রাজ্যের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হল বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এপ্রসঙ্গে কেন্দ্রকে দুষে মমতা বলেন, ‘‘বাজারে আগে ফসলের দাম বাড়লে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম। রাজ্যের সব ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে। ফোড়ে-জোতদারদের জন্ম দিয়েছে এরা। তারা চাষির সব জিনিস লুঠে নেবে। দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। করোনা ঠেকাতে পারল না। খাদ্যের মহামারী নিয়ে এল।’’

রাজ্যসভায় কৃষি বিল পেশের সময় হট্টগোলের জেরে সোমবারই তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন-সহ আট সাংসদকে বরখাস্ত করেছেন চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। পরে বরখাস্ত সাংসদদের আচরণ নিয়ে নিন্দা প্রস্তাবও আনা হয়েছে।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আট সাংসদকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি নিন্দা প্রস্তাব দিয়েছে। বিজেপি কাকে নিন্দা করল তাতে আমাদের যায় আসে না। কৃষকের ক্ষেত কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। কৃষকদের জমি কাউকে পাইয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। কৃষকদের সব ক্ষমতা কেড়ে ভুঁইফোড়, জোতদারদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিচ্ছে। ভারতবর্ষের খুব দুর্দিন।’’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।