সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও প্রান্তে কোনও সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা কোনও জেলাস্তরীয় সরকারি কর্মসূচি প্রত্যেক ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দেন তিনি। তাঁর অনুপ্রেরণা ছাড়া রাজ্যে কোনও শৌচাগারও তৈরি হতে পারে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এমনটা দাবি না করলেও তাঁর দলের কর্মীদের কর্মকাণ্ড সেই প্রমাণই দেয়। টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও ‘অনুপ্রেরণা’ তিনি। তাই স্ক্রিনিং আটকে যাওয়া ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবির কলাকুশলীরা ভাবছেন এমন কিছু একটা করবেন যাতে তাঁর ‘অনুপ্রেরনায়’ অন্তত ছবি মুক্তি পায়।

তাঁরা বলছেন ছবির ট্যাগ লাইন বদলে দিলে তবে হয়তো ছবি মুক্তির গ্রহণ কাটবে। ছবির কলাকুশলীদের অন্যতম অভিনেতা সঞ্জয় বিশ্বাস বলেছেন, “ছবির ট্যাগ লাইনটা যদি চটি পিসির অনুপ্রেরণায় হত তাহলে ভালো হত।” এবার এই চটি পিসি বলতে অভিনেতা কাকে ইঙ্গিত করেছেন তা স্পষ্ট। তিনি এও বলেছেন, “এই ছবিতে কি এমন কিছু ছিল যা দেখে মনে হয়েছে ‘এ ম্যা কি বাজে ছবি’ এমন কিছু। তাহলে কেন এমন করা হল?” অভিনেতার ইচ্ছা, যার বা যাদের ‘অনুপ্রেরণায় ভবিষ্যতের ভূতের স্ক্রিনিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাঁদের পাশে বসিয়ে পপকর্ণ খেতে খেতে সিনেমাটি দেখাবেন। কিন্তু সবার প্রথমে ‘ভবিষ্যতের ভূত’-তবে সিক্যুয়েল নয় এই ট্যাগ লাইন না দিয়ে চটি পিসির অনুপ্রেরণাটাই হতে হবে ট্যাগ লাইন। তবেই হয়তো তাঁর ইচ্ছাপূরণ হতে পারে।

অনীক দত্ত পরিচালিত ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ হল থেকে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতার অ্যাকাডেমি চত্বরে সমবেত হলেন শিল্পীরা। সেখানেই রাজ্য সরকার বিরোধী নানা মন্তব্য উঠে এসেছে। যার মধ্যে সঞ্জয় বিশ্বাসের প্রতিবাদী ভাষা ছিল এমনই। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হলেও ভবিষ্যতের ভূত ছবি স্ক্রিনিং বন্ধ নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এটি নজিরবিহীন ঘটনা। খুব খারাপ লাগছে। উচ্চতর কর্তৃপক্ষ না কি বলছে ছবি বন্ধ করতে। তাহলে কি প্রতিহিংসামূলক আচরণ কাজ করছে? আমরা যদি এর প্রতিবাদ না করি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ আরও খারাপ হবে।”

গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের অনেকগুলি হল আর মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পেয়েছিল ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছায়াছবিটি। কিন্তু পরের দিন অনেক দর্শকই হলে গিয়ে জানতে পারেন ‘ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ রাখা হয়েছে টেকনিক্যাল কারণে’।একসঙ্গে সবকটি হল থেকেই ‘টেকনিক্যাল কারণে’ কেন সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যাবে, তা নিয়ে সেদিন থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। অনীক দত্ত বলছিলেন, “আমি কলকাতার একটা মাল্টিপ্লেক্সে গিয়েছিলাম, কেন ছবিটা দেখানো হচ্ছে না, সেটা জানতে। আমাকে বলা হয় যে বলেছিলেন, ”উপরতলার নির্দেশে” ছবিটা দেখানো বন্ধ করা হয়েছে। “কে সেই উপরতলার ব্যক্তি, তার কোনও ফোন নম্বর বা ইমেল আইডি ওই মাল্টিপ্লেক্সের ম্যানেজার আমাকে দিতে পারেন নি, সেই উপরতলার ব্যক্তির মৌখিক নির্দেশেই নাকি তারা ছবিটি দেখানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে”। তবে কি সেই উপরতলার ব্যক্তিত্ব ‘চটি পিসি’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদীদের ইঙ্গিত তেমনই।