স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলাকে এত দুর্বল ভাববেন না। বাংলার মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচতে জানে। দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ভিডিও কনফারেন্সে অন্য রাজ্যগুলিকে বলার সুযোগ দেওয়া হলেও বাংলাকে সুযোগ দেওয়া নিয়ে বুধবার এমনই জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু বিষয়টিতে যে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, সেটা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বললেন, “একটা মিটিংয়ে গেলাম বা না গেলাম তাতে কি বাংলার ভবিষ্যৎ ঠিক হয়ে যাবে? বাংলাকে এত দুর্বল ভাবেন কেন? বাংলার মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচতে জানে। মাথা উঁচু করে চলতে জানে।”

এরপরই তিনি বললেন, “ওঁরা(পড়ুন, কেন্দ্র)
প্রয়োজন মনে করেননি তাই ডাকেননি। সেটা নিয়ে ঝগড়া করার কোনও কারণ নেই। এখন আমি মনে করি মানুষের স্বার্থে লড়াই করাটাই বড় কাজ।”

মঙ্গল ও বুধবার পরপর দু’দফায় দেশের মোট ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসকদের সঙ্গে আনলক পর্ব নিয়ে বৈঠক শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ছিল মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাত, দিল্লির মতো সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্ত ১৫টি রাজ্য। সমস্যা নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিল মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, বিহার, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

করোনা- আমফান, এই জোড়া বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত বাংলার নায্য দাবিদাওয়া নিয়ে এবার নরেন্দ্র মোদীর ডাকা বৈঠকে সরব হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মমতা। কিন্তু বক্তা তালিকায় বাদ ছিল বাংলা। রাজ্যকে এভাবে ব্রাত্য রাখায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন মমতা। ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। বিষয়টিকে বাংলার প্রতি বঞ্চনার তালিকার নবতম সংযোজন বলেই মনে করছেন তিনি।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে রাজ্যের কোনও প্রতিনিধিই যোগ দেননি। বরং ওই সময়ে নবান্ন সভাঘরে চিকিৎসক ও ডাক্তারদের সংগঠনগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যাঁরা করোনা ঠেকাতে প্রতি মুহূর্তে কাজ করছেন, তাঁদের কথা তো আমাদের ভাবতে হবে। আমি মনে করি, এটা বেশি ভালো কাজ।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “একদিন এমন আসবে যখন বাংলাই সকলকে ডাকবে।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ