ফাইল ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা ভোটে আঠারোটা আসন হারিয়ে জোর ধাক্কা লেগেছে দলের মনোবলে। তার উপর কাটমানি বিতর্কেও নিচু তলায় দল বেসামাল। সেইসঙ্গে দলে ভাঙন রয়েইছে৷ এর সবকিছুর প্রভাব পড়েছে একুশের আয়োজনে৷ সেটা বুঝেই আজ, বৃহস্পতিবার দলের সমস্ত বিধায়ককে নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠকে বসছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন না রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত৷

গত দশ-বারো বছর ধরে মাস খানেক আগে থেকে জেলায় জেলায় একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠক শুরু হয়ে যায়। রাজ্যজুড়ে ছয়লাপ হয়ে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি৷ জেলা স্তরে সভা সমাবেশ ডাকা হয়। সেখানে নেতৃত্ব দেন, সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা।

কিন্তু এবার ছবিটা অন্যরকম৷ সমাবেশের মাত্র দু’সপ্তাহ বাকি অথচ পাড়ায় পাড়ায় একুশ নিয়ে তেমন কোনও উৎসাহ নেই৷ উল্লেখ্য, এবারের সমাবেশ থেকে ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়ার দাবিতে সরব হবে তৃণমূল। সেই অর্থে এই সমাবেশের গুরুত্ব তৃণমূলের কাছে অনেক বেশি। ইতিমধ্যে দলের শীর্ষস্তরে কয়েক দফা এবং জেলাভিত্তিক নেতা-নেত্রীদের নিয়ে আলোচনা সেরে ফেলেছেন তিনি।

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে প্রতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী সমর্থক আসেন। এ বার উত্তরবঙ্গে ধুয়ে মুছে গিয়েছে তৃণমূল। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে এবার সেরকম লোক আসবে না বলেই আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল তথা ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতেও লোকসভায় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূলে৷ ফলে সেখানেও একুশের সভা নিয়ে উৎসাহে ভাটা রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এবারের একুশ মমতার কাছে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্চের৷ কারণ তিনি জানেন, এই সভার ভিড়ে নজর রাখবে বিজেপি৷সূত্রের খবর, একুশের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করতে এদিন দলের বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করবেন দিদি৷