বর্ধমান: করোনার জেরে লকডাউনে কোনো মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে তার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। একইসঙ্গে আগামী ১ এপ্রিল থেকে রেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চাল, আলু প্রভৃতি দেবার কথাও তিনি ঘোষণা করেছেন। আর সেই উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রবিবার রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে হাজির ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলাশাসক বিজয় ভারতী সহ প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিকরা। করোনা মোকাবিলায় নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কেও এদিন বিস্তারিতআলোচনা করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে স্বপনবাবু জানিয়েছে্ন, আমরা প্রত্যেকেই চাই বাঁচতে। বর্তমান পরিস্থিতি বাঁচার লড়াই। টিকে থাকার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে একটি প্রাণও যাতে যেতে না পারে সেজন্যই তাঁরা চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী থেকে জেলা প্রশাসন রাস্তায় নেমেছেন। তিনি নিজেও এলাকায় এলাকায় ঘুরছেন।

স্বপনবাবু জানিয়েছেন, ১ এপ্রিল থেকে রেশনের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য বিতরণের ক্ষেত্রে যাতে কোনোরকম সমস্যা না হয় এবং ভিড় না হয় সেজন্য প্রশাসনিক স্তরে এদিন আলোচনা করা হয়েছে। সপ্তাহের সমস্ত দিনই যাতে রেশন দোকান খোলা থাকে তারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই এই সময়টাকে ছুটির দিন বলে দেদার ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানতে পারলেই পুলিশকে জানাচ্ছেন। পুলিশও ব‌্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। ভয়ংকর এই লড়াইয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, শনিবারই বর্ধমান জেলা কৃষি খামারে কোরেণ্টাইন সেণ্টারের কাজ খতিয়ে দেখেন জেলাশাসক সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। ১৫০টি বেডের এই অস্থায়ী কোরেণ্টাইন সেণ্টারকে সবরকমের সুবিধাযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে। জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, তাঁরা সবরকমভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।

অপরদিকে, লকডাউন পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর যোগান যাতে নিরবিচ্ছিন্ন থাকে তার জন্য মেমারী পুরসভার ব্যবসায়ীদের নিয়ে শনিবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করে যান রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল বীরেন্দ্র। মেমারী থানায় আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের আই জি, ডি আই জি সহ অন্যান্য আধিকারিক, পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ জেলা পুলিশের আধিকারিক বৃন্দ। এছাড়াও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক, চেয়ারম্যান প্রমুখ।

ডি জি পি বীরেন্দ্র জানিয়েছেন, পুলিশ ভাল কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। সরকারি নির্দেশ মেনে চলতে হবে। তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের যোগান যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং কালোবাজারি যেন না হয় তার জন্য ব্যবসায়ী সংগঠনকে বলা হয়েছে। এব্যাপারে প্রশাসনিক পর্যায়ে সবরকমের সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন মেমারী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক রামকৃষ্ণ হাজরাও।