সুমন ভট্টাচার্য: একদা ছায়াসঙ্গী সোনালী গুহ নিশ্চয়ই মমতার অনেক শাড়ির খবর জানেন, কিন্তু সাতগাছিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক একজন মহিলা রাজনীতিকের কোন ইস্যুকে সামনে আনা উচিত, সেটা কি জানেন? সোমবার বিকেলে সোনালী যখন ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলকেই বেছে নিচ্ছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার রাস্তায় হাঁটছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো এবং তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধতে। তৃণমূলের সব মিছিলের মতো সোমবারের মিছিলেও দলনেত্রীর পাশে অনেক তারকাই হেঁটেছেন, যাঁরাও হয়তো আগামীকাল দল বদলে অন্য শিবিরে চলে যেতে পারেন। সমস্যা হচ্ছে, তৃণমূল নামক দলটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এক এবং একমাত্র। সোনালী গুহ গিয়ে একদা তাঁর নেত্রীর অনেক ব্যক্তিগত কেচ্ছা ফাঁস করবেন, এমনটাই মমতা বিরোধীদের আশা। কিন্তু রাজনীতিতে কেচ্ছার বাইরেও অনেক কিছু থাকে, সেটা সোনালী গুহ কি বিজেপিকে দিতে পারবেন?

সোমবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল দেখে মনে হল, তিনি ভালই জানেন রাজনীতিতে কোন ইস্যুটাকে সামনে আনতে হবে। যখন গত দু’মাসে গ্যাসের ২২৫ টাকা বেড়েছে, তখন সেটাই যে ভোটারদের মাথায় গেঁথে দিতে হবে, সেটা তিনি পদযাত্রা করে বুঝিয়ে দিলেন। অন্যদিকে বিজেপি কিন্তু নিজেদের এতদিনের ঘোষিত রাজনৈতিক আদর্শ বা লাইন ছেড়ে সরে গিয়ে সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে দলে নিয়ে নিল। নব্বই বছরের রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য যদি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন, তাহলে পঁচাত্তরের বেশি বয়সী হয়ে যাওয়ার জন্য লালকৃষ্ণ আঢবাণী, মুরলী মনোহর যোশী বা কলরাজ মিশ্রকে রাজনৈতিক বানপ্রস্থে কেন যেতে হয়েছিল? বিজেপি কি তাহলে পশ্চিমবঙ্গ দখলের লক্ষ্যে, বা আরও পরিষ্কার করে বলতে গেলে যেকোনও মূল্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর জন্য এতদিনের ঘোষিত নীতি, আদর্শ সব কিছুকেই বিসর্জন দিচ্ছে?

সোমবারই নারী দিবস উপলক্ষ্যে একটি সর্বভারতীয় পত্রিকা, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে আমার যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে আমি পরিষ্কারই বলেছিলাম, পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মহিলাদের ভোট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে। এবং সেইদিকে লক্ষ্য রেখেই ভোটকূশলী প্রশান্ত কিশোর একটা ক্যাম্পেনিং লঞ্চ করেছেন, ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত যে কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেটা বিজেপিকে নারী-বিদ্বেষী বলে প্রমাণ করে মহিলাদের ভোট নিজের দিকে টানার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়তি ‘সুবিধা’ দিয়ে দিয়েছেন বিজেপির দুই তারকা। প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছেন, ‘বেটিয়া পরায়া ধন হোতা হ্যায়’। আবার বাবুলের এই মন্তব্যকে নারীবাদিরা সমালোচনা করতে শুরু করার পরেই আর এক অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ খোঁচা দিয়ে বলেছেন একদা তাঁর বন্ধু এবং এই নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী, চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী কি তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রী শুভশ্রীর বাড়িতে গিয়ে থাকেন? রুদ্রনীলের মন্তব্য যে আসলে পুরুষতন্ত্রকে সমর্থন করেন, এবং মহিলাদের বাড়িতে পুরুষের গিয়ে থাকাকে ‘ছোট’ করে দেখায়, সেটা বোধহয় এই তারকা তো বুঝতেই পারেননি, গেরুয়া শিবিরও তাঁকে সতর্ক করে দেয়নি।

মমতা কিন্তু বিজেপি যে তাঁকে আক্রমণ করতে গিয়ে আসলে মহিলাদেরকেই ছোট করে দেখাচ্ছে, এটা তুলে ধরতে চেষ্টার কোনও কসুর করেননি। তাই তিনি একদিকে দলের মহিলানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বা শশি পাঁজাকে দিয়ে যেমন বাবুলের মন্তব্যের প্রতিবাদ করিয়েছেন, তেমনই পরপর দু’দিন শিলিগুড়ি এবং কলকাতায় এমন ইস্যুতে রাস্তায় নামলেন, যা আসলে আমাদের রান্নাঘর সংক্রান্ত। অর্থাৎ যে মহিলারা রান্নাঘরে যান, তাঁরা প্রতিদিন যে মূল্যবৃদ্ধির আগুনে আঁচকে টের পাচ্ছেন, এবার সেই মহিলাদের সমর্থনকে তিনি নিজের দিকে টানবার চেষ্টা করলেন।

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে যেটা সত্যি, এবং দলের ভেতর প্রথম বিদ্রোহী, দলের প্রাক্তন সেনাপতি পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় যেটা দুঃখ করে বলেছিলেন, সেটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির সমচেয়ে বড় পুঁজি। তৃণমূলের পদ থেকে ভোট, সবই আসলে তাঁকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। সেই কারণেই তৃণমূল ত্যাগ করে পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য অনেক নেতাই যেমন দলের ভোট ব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে পারেননি, সেটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য রাজনৈতিক ‘অ্যাডভান্টেজ’। তার সঙ্গে এই নারী দিবসে মমতা নিজের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপির গায়ে দুটি তকমা দেগে দিতে চাইলেন। এক, বিজেপি বড়লোকদের দল, সেই জন্যই গ্যাসের দাম বা পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়লে এবং সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও মোদী সরকার বা দল সেই নিয়ে ভাবিত নয়। দ্বিতীয়ত, বিজেপি আসলে একটি ‘নারী-বিদ্বেষী’ দল, তাই মহিলাদের ‘পরায়া ধন’ মনে করে।গেরুয়া শিবিরের জন্য যেটা অস্বস্তিকর অতীতেও তাদের কেন্দ্রীয়মন্ত্রী এবং বিহারের নেতা গিরিরাজ সিং বা কর্নাটকের অনেক নেতামন্ত্রী এমন সব কথা বলেছেন, যা নারীদের সমানাধিকারকে বা মার্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করে না। এইসব কারণে এমনিতেই মহিলাদের মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ ছিল, এবার সেটাকেই সুকৌশলে মমতা বন্দোপাধ্যায় ভোটে পরিণত করতে চাইছেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।