ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হিটালারের সঙ্গে তুলনা করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। নিরাপত্তার দাবিতে সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতি করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। প্রশাসনের আবেদনেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় তারা। নাকাল রোগী ও তাদের পরিবার। ভেঙে পড়ার মুখে পরিষাবা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এদিন হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজে যান এসএসকেএম-এ।

কড়া বার্তা দেন জুনিয়র ডাক্তারদের৷ কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা৷তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, চার ঘণ্টার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দিতে হবে৷ যারা তা করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ মমতা এদিন জানিয়ে দেন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারিকেই স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের প্রকাশ বলে মন্ত্রব্য করেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

তিনি বলেন, ‘গত আট বছরে শতাধিক উদাহরণ রযেছে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের হেনস্থা করা হয়েছে। রাজ্য সরকার আশ্বাস দিয়েছে অভিযুক্তদের শাস্তুর। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কথার কোনও দাম নেই।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণে ডাক্তার ও রোগীদের মধ্যে অ-বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর সংযোজন, ‘ভোটের ফলেই প্রমাণ তৃণমূল বিশ্বাস যোগ্যতা হারিয়েছে। নিজেই দাবি করছেন ওঁর সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি আন্দোলনকারীরা। এটা লজ্জাজনক। ওঁর পদত্যাগ করা দাবি করছি।’

সরকারি হাসপাতালে অচলাবস্থার জন্য এসএসকেএম-এ মুখ্যমন্ত্রী দায়ি করেন বিজেপিকে। বলেন, ‘বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, এবার অবস্থা বুঝুন।’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ বহিরাগতরা এসে হাসপাতালে অশান্তি বাঁধাচ্ছে৷ পরিষেবা না দিলে চিকিৎসক হওয়া যায় না৷

এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের জবাব, ‘উনি সবেতেই বিজেপি জুজু দেখছেন।’ তাঁর মতে এটা দায় এড়ানোর কৌশল। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীই আসলে ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে চাইছেন। বিজেপি আক্রান্ত ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছে মাত্র। দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তা উনি করতে ব্যর্থ। তাই এইসব অভিযোগ করছেন। ’