কলকাতা: কট্টরপন্থী সংগঠনকে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেবে না সরকার৷ সোমবার নবান্নে ছিল রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক৷ সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর৷

সদ্য তিনটি বিধানসভার উপনির্বাচনে জয়লাভ করেছে তৃণমূল৷ এনআরসি-বিরোধিতারই শাসক দলকে জিতিয়ে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা৷ এছাড়া তৃণমূলের বাক্সে সংখ্যালঘু ভোট পড়েছে৷ আর এই দুইকে হাতিয়ার করে ২১ শের নির্বাচনে বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করতে চায় তৃণমূল৷ কিন্তু তাতে কিছুটা বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির ‘অল ইন্ডিয়া মজলিসে-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ বা এমআইএম এর মত কিছু সংগঠন৷

আগামী ভোটে যদি রাজ্যে এমআইএম ভোটে লড়ে,তাহলে এই রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে৷ রাজ্য সরকারের কাছে খবর রয়েছে,২০২০ সালের শুরুতে ব্রিগেডে বড় সভা করতে চলেছে ওয়াইসির সংগঠন৷ তার আগেই সতর্ক রাজ্য সরকার৷ নবান্নে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বলেছেন,রাজ্যে কট্টরপন্থী সংগঠনকে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না৷

কট্টরপন্থী সংগঠন বলতে তিনি কাদের বোঝাতে চাইছেন,তা অবশ্য পরিস্কার করে বলেননি মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে অনেকেই মনে করছেন এমআইএমকেই কট্টরবাদীদের তালিকার শীর্ষে রাখছেন তিনি৷ কারন সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে বিজেপির দোসর বলে ওয়াইসিকে আক্রমণ করেছিলেন৷

সর্বভারতীয় মজলিসে-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা এমআইএম (অনুবাদ: মুসলিম ইউনিয়ন পরিষদের অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল) ভারতের স্বায়ত্তশাসনের রাজধানী তেলঙ্গানার একটি আঞ্চলিক ভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এর প্রধান কার্যালয় আঘাপুর হায়দ্রাবাদ তেলঙ্গানায়। যা ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের হায়দ্রাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে এমআইএম হায়দ্রাবাদ আসনের জন্য লোকসভা আসন নিয়েছে। ২০১৪ তেলেঙ্গানা বিধানসভা নির্বাচনে এমআইএম সাত আসন জিতেছে এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘রাষ্ট্রীয় দল’ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সোমবার নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সব জেলার পুলিশ সুপার,পুলিশ কমিশনার, আইজি, ডিআইজি সহ পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এছাড়া নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা, স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিত কর পুরকায়স্থ, ডিজি বীরেন্দ্র, অতিরিক্ত ডিজি (আইন শৃঙ্খলা) জ্ঞানবন্ত সিং ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা প্রমুখ৷

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার অভিযোগ করে আসছেন, কিছু রাজনৈতিক দল রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার এবং আইন- শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া সদ্য উপনির্বাচনের পর বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া সামনেই বড় দিনের উৎসব ও নববর্ষ। তাকে ঘিরে যাতে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে৷