কলকাতা: সম্প্রতি যে পদ্ধতিতে দলে প্রার্থীদের নির্বাচনে লড়ার টিকিট দেওয়া হচ্ছিল তা যে সঠিক নয় তা মনে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবারের লোকসভা ভোটে তৃণমূল আগের মতো একাধিপত্য ধরে রাখতে পরেনি৷ বরং এ রাজ্যে বিজেপি অনেকটা জমি দখল করে নিয়েছে৷

তাই মঙ্গলবার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেতে বিভিন্ন পুরসভার কাউন্সিরলদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলনেত্রী মমতা৷ আর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রার্থীদের টিকিট বন্টনের ত্রুটির প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি৷

এদিন নেত্রীর কথায় উঠে এসেছে যেভাবে জেলা নেতাদের হাতে প্রার্থীদের টিকিট বিলির ব্যবস্থা হয়েছে তা ঠিক নয় কারণ তারা অনেক সময় নিজেদের ইচ্ছে মতো প্রার্থী নির্বাচন করে থাকেন৷ প্রার্থীদের প্যারফরম্যান্সের ভিত্তিতে টিকিট দিতে চান৷ সেক্ষেত্রে জেলা নেতাদের মাধ্যমের বদলে দল সরাসরি প্রার্থীদের টিকিট দেবে বলেও এদিন জানিয়েছেন নেত্রী৷

পাশাপাশি যেভাবে বাবা তৃণমূল করে বলে ছেলেকে টিকিট দেওয়া হয়ে থাকে- সেই পদ্ধতিও ভুল বলে এদিন ব্যক্ত করেছেন তিনি৷ তাছাড়া নোয়াপাড়ার বিধায়ক বিকাশ বসু মারা গেলে সেখানকার নির্বাচনে তাঁর স্ত্রীকে টিকিট না দিয়ে তার খুনিদের টিকিট দেওয়া হয়েছিল সেটা ঠিক ছিল না বলেও জানিয়েছেন৷

তবে যেভাবে তৃণমূল ছেড়ে বেশ বিছু নেতা অন্য দলে চলে যাচ্ছেন তাদেরও তিনি এদিন একহাত নিয়েছেন৷ প্রসঙ্গত, গতকালই সুনীল সিং-এর নেতৃত্বে ১২জন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ তারই প্রেক্ষিতে এদিন নেত্রীকে বলতে দেখা গিয়েছে ১৫-২০ জন কাউন্সিলর চলে গেলে কিছু যায় আসে না৷

হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যেসব কাউন্সিলর চুরি করে ধরা পড়লে তারা বাঁচতে অন্য দলে পালাচ্ছে৷ এরা দল ছাড়লে দলের কিছু এসে যায় না, এবার তিনি বরং অন্যদের টিকিট দেবেন৷ তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চোরেদের দলে রাখা হবে না এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যাঁরা দল ছাড়তে চান তাঁরা তাড়াতাড়ি দল ছাড়ুন।

এদিনও তিনি যথারীতি দলীয় কাউন্সিলরদের সতর্ক করেছেন, কোনভাবেই প্রোমোটিংয়ে নজর দিলে চলবে না৷ তাছাড়া সরকারি সম্পত্তি নানা ভাবে এই সব নেতা অথবা তার পরিবারের লোকেদের সম্পত্তি হয়ে যাচ্ছে বলে উষ্মা প্রকাশ করেছেন৷ এদের বিরুদ্ধে ফিরহাদ হাকিমকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেন ৷ অন্যদিকে পঞ্চায়েত স্তরে নেতাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য বৈঠক করার ইঙ্গিত দিয়েছেন৷

দল ছাড়তে তিনি এদিন শুধু অসৎ কাউন্সিলরদেরই বলেননি আঙুল তুলেছেন বিধায়কদের দিকেও৷ টাকা এবং পেট্রোল পাম্পের হাতছানি রয়েছে সে কথাও তিনি ব্যক্ত করেছেন৷ নেত্রীর বক্তব্য, ওরকম নেতা একজন গেলে পাঁচশো জন এসে যাবে৷

জনপ্রতিনিধিদের মানুষের কাছে যেতে বলা হয়েছে এবং এজন্য মানুষের কাছ থেকে গালাগাল খেলেও খেতে হবে বলে জানান৷ পাশাপাশি তিনি কাউন্সিলরদের নির্দেশ দিয়েছেন ভোটার তালিকা যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে নজর দিতে৷

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব