হাওড়া: রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে প্রশান্ত কিশোর নাকি তৃণমূলের ভোল পাল্টে ফেলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক গত কয়েকটি উদ্যোগে তার প্রভাবও দেখ আগিয়েছে। ‘দিদি কে বল’ হোক কিংবা গ্রামে গ্রামে গিয়ে নেতা-মন্ত্রীদের রাত্রিযাপন- এসবই নাকি পিকে-র স্ট্র্যাটেজি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ফের মাটির কাছাকাছি ফিরতে চাইছেন, সেই ছবি ধরা পড়ল সোমবার। হাওড়ার যাওয়ার পথে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন এক বস্তিতে। সেখান ঘরে ঢুকে বস্তিবাসীর খাওয়া-পরার খোঁজ নিয়েছেন তিনি।

মুখ্য়মন্ত্রীর কাছে পানীয় জল ও শৌচালয় নিয়ে অসুবিধের কথা জানান এলাকার বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁরা জানান, ৪০০ জন বস্তিবাসীর জন্য মাত্র দুটো বাথরুম। একথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা। সঙ্গে সঙ্গে এই পরিস্থিতি শুধরে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শুধু তাই নয়, প্রত্যেকে ভোট দিতে পারেন কিনা, রেশন কার্ড আছে কিনা সেই খোঁজও নেন মমতা। জিজ্ঞেস করতে গিয়ে চমকে যান তিনি। জানতে পারেন বহু লোকের রেশন কার্ড নেই। জেনে অবাক হয়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা দেখার নির্দেশ দেন। কেউ কেউ জানান ২৫ বছর ধরে থাকলেও তাঁদের রেশন কার্ড নেই। অনেকে ভোট দিতেও পারেন না।

বস্তির ঘরের ভিতরও ঢুকে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। রাজের মুখ্যমন্ত্রী এভাবে চটি খুলে ঘরে ঢুকে যাচ্ছে দেখে, স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত হয়ে পড়েন বস্তিবাসী। তাঁদের ঘরে গিয়ে মমতা জিজ্ঞেস করেন, ‘কি রান্না হয়েছে আজ? মাছ ভাত? রাতে কী খাবে?’

এরপরই হাওড়া পুরসভার প্রশাসককে কড়া নির্দেশ দেন তিনি। বলেন, “৭ দিনের মধ্যে সমস্ত পুরসভা ঘুরে দেখবেন।” বস্তিগুলোর কী অবস্থা? কেন কাউন্সিলররা দেখেননি? প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়া শহরে পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা বা জঞ্জাল অপসারণ ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভপ্রকাশ করতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

সোমবার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর যাওয়ার পথেই হাওড়ার রাউন্ড ট্যাংক লেনের বস্তিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানকার মানুষের ঘরে ঢুকে খোঁজখবর নেন দলনেত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই আচমকা আগমেন স্বভাবতই খুশি বস্তিবাসী।

এদিন ফেসবুকেও সেই বস্তি পরিদর্শনের ছবি পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, হাওড়ার ওই অঞ্চলের হিন্দি-ভাষী লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের বুদ্ধিতেই নাকি জনসংযোগের ব্যাপক কর্মসূচী নিয়েছেন মমতা। ২০২১-কে যখন বিজেপি টার্গেট করেছে, তখন মমতাও কোনও অংশে পিছিয়ে থাকতে চান না। আগেই দিদিকে বলো কর্মসূচীতে ফোন নম্বর চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাড়াও পেয়েছেন তাতে।