কলকাতা: বিহার নির্বাচনে লালু নীতীশ জোটের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশানুরূপই ফল হয়েছে বিহারে। তাই নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ট্যুইট করে নীতীশ কুমারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানালেন মমতা। ট্যুইটেও সহিষ্ণুতা-অসহিষ্ণুতা নিয়ে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নীতীশ কুমারজি, লালুজি এবং আপনাদের পুরো দলকে অভিনন্দন। বিহারের ভাই-বোনদেরও অভিনন্দন। এই ফল সহিষ্ণুতার জয় এবং অসহিষ্ণুতার পরাজয়।’’nitish-arvinda

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই মহাজোটবন্ধনের জয়ে খুশি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর মতে, মহাজোটবন্ধনের এই জয় ‘ঐতিহাসিক জয়’। তাই নীতীশ কুমারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কেজরিওয়ালের ট্যুইট, “এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য আপনাদের অনেক অনেক অভিনন্দন।’’

বিহার নির্বাচনের শুরু থেকেই মহাজোটবন্ধনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল। প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে লালু-নীতীশের পক্ষে প্রচারও চালিয়েছিলেন তাঁরা। ট্যুইটার, ফেসবুক ছাড়াও ভোট চলাকালীন প্রকাশ্যে বিহারবাসীকে মহাজোটকে ভোট দেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। আবার অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মহাজোটের হয়ে সওয়াল করে গিয়েছেন। অসহিষ্ণুতার হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে বিহারকেই অস্ত্র করেছিলেন এঁরা। যদিও তৃণমূল বা আপ-এর আগামী লোকসভা নির্বাচনই ‘পাখির চোখ’ এবং বিহার থেকেই ঘর গোছানো শুরু করতে চায় বলে রাজনৈতিক মহলের মত। কেননা এনডিএ-কে সরাতে আঞ্চলিক দলগুলির একত্রিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন মমতা, কেজরিওয়াল- উভয়েই। তাই বিহার ভোটে প্রকাশ্যেই লালু-নীতীশ জোটকে সমর্থন জানিয়েছিলেন তাঁরা। তারপর এঁদের প্রত্যাশামতোই বিহার ভোটের ফল এঁদের অনুকূলে গেল। এনডিএ-কে হারিয়ে মহাজোটের এই সাফল্য মমতা, কেজরিওয়াল সহ আঞ্চলিক দলগুলিকে বৃহৎ রাজনীতিতে শক্ত জমি দিল, তা বলা বাহুল্য।